ফেনীতে ১১ মাসে ৫১ ধর্ষণ মামলা, নির্যাতনের শিকার ১১৪ জন

9

সবুজ সিলেট ডেস্ক::
ফেনীতে চলতি বছরের গত ১১ মাসে ১১৪ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। যা গত বছরের তুলনায় তিনগুণের বেশি। জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় ও স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে। আশঙ্কাজনক হারে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারি থেকে গত ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ১১৪ নারী ও শিশুর ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১১, ফেব্রুয়ারিতে ৫, মার্চে ১২, এপ্রিলে ৪, মে মাসে ৮ জন, জুনে ৭, জুলাইয়ে ১০, আগস্টে ১৩, সেপ্টেম্বরে ৯, অক্টোবরে ২২ ও নভেম্বর মাসে ১৩ জন নমুনা দিয়েছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪৩, সোনাগাজীতে ২২, দাগনভূঞায় ৮, ছাগলনাইয়ায় ১৫, পরশুরামে ৫, ফুলগাজীতে ১১ জন রয়েছেন। এছাড়া আদালতে অভিযোগ করে নমুনা দিয়েছেন ৭ জন। পিবিআইতে অভিযোগ করে নমুনা দিয়েছেন একজন নমুনা দিয়েছেন।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মাসে জেলার ৬ থানায় ৫১টি ধর্ষণের মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামীর সংখ্যা ৬৮। পুলিশ ৩১টি মামলার প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে। ধর্ষণের ঘটনার মধ্যে ফেনী মডেল থানায় ১৬, সোনাগাজী মডেল থানায় ১৩, ছাগলনাইয়া থানায় ১০, ফুলগাজী থানায় ৭, দাগনভূঞা থানায় ৩, পরশুরাম মডেল থানায় ২টি মামলা হয়েছে।

গত বছর জেলায় ৬৪টি যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনায় ৩৭টি ও যৌন নিপীড়নে ২৬টি মামলা হয়েছে। আর যৌতুকের জন্য খুনের মামলা হয়েছে একটি।

ফেনীর সাবেক নারী এমপি জাহানারা আক্তার সুরমা বলেন, ‘ধর্ষণ ভঙ্গুর সামাজিক সংস্কৃতির প্রতিকৃতি। যথাযথ সামাজিক শিক্ষা, বিশেষত মানবিক গুণাবলী চর্চার অভাব থেকেই ধর্ষণের সূত্রপাত। অপসংস্কৃতির চর্চাও এর বড় কারণ। তবে ধর্ষণের বিষয়ে সামাজিক সচেতনতাও বাড়ছে।’

নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য সচিব জান্নাতুল ফেরদৌস মিতা জানান, ধর্ষণের ক্ষেত্রে অতীতের সব রেকর্ড পার করেছে। ধর্মীয় ও সামাজিক অবক্ষয়, মানবিক মূল্যবোধ, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দায়ী। যখন কোনও ঘটনা ঘটে যায় তখন সরকার দলীয় লোক হওয়ায় তারা বহিষ্কার করে। বিচারহীনতার ফলে এটি বেড়ে চলেছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর হাফেজ আহম্মদ বলেন, ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতার যেসব ঘটনা ঘটে তার একটি অংশ জানা যায় না। সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে অনেকে দেরিতে নমুনা দেওয়ায় প্রমাণও মেলে না।

পুলিশ সুপার খোন্দকার নূরুন্নবী বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা কিংবা অভিযোগ পেলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আসামিদের আইনের আওতায় আনেন। পুলিশ সবসময় এসব ঘটনা রোধে তৎপর রয়েছে। ধর্ষণের ঘটনার হওয়া মামলার বেশিরভাগই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।’

সবুজ সিলেট/০২ডিসেম্বর/শামছুন নাহার রিমু