নবীগঞ্জে মকুলের চালকাণ্ডে তোলপাড়

8


এম,এ আহমদ আজাদ,নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
চাল চুরি প্রমাণিত হওয়ায় নবীগঞ্জে জল্পনা, কল্পনা আর নাটকীয়তা শেষে বহুল আলোচিত উপজেলা আওয়ামীলীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি ও গজনাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুলকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ওই ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মাহবুবুর রহমান নুরুকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়ীত্ব পালনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে ¯’ানীয় প্রশাসন।

গতকাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান। তিনি জানান, ৩ ডিসেম্বর থেকে মুকুলকে ওই পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়ীত্ব ও দাপ্তরিক কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও আলোচিত এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারী গাছ কাটা, পাহাড় নিধনসহ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার অভিযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বে তার অনিয়ম আর দুর্নীতিসহ নানা কু-কর্মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা আওয়ামীলীগের পদ থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয়।
সূত্রে প্রকাশ, বিগত চার বছর ধরে নামে বে নামে কয়েক শতাধিক খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর (১০টাকা) কেজির চাল প্রাপ্ত সুবিধা ভোগীর আত্মসাতের অভিযোগ উঠে ইমদাদুর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে। পরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ও উপজেলা খাদ্য বান্ধব কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির তদন্তে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাল আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ¯’ানীয় সরকার মন্ত্রনালয় কর্তৃক বরখাস্ত হয়েছিলেন চেয়ারম্যান মুকুল। গত ৭ জুলাই ইমদাদুর রহমান মুকুলকে বরখাস্তের গেজেট প্রকাশ করে ¯’ানীয় সরকার বিভাগ। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ৩৯৩৭ নং পিটিশন দাখিল করেন ইমদাদুর রহমান মুকুল। ২৩ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি এম.খসরুজ্জামান ও বিচারপতি এম. মাহমুদ হাসান তালুকদারের দ্বৈত বেঞ্চ শুনানি শেষে ¯’ানীয় সরকারমন্ত্রণালয়ের আদেশ ¯’গিত করে চেয়ারম্যানকে স্বপদে বহালের আদেশ দেন। এরইপ্রেক্ষিতে ১০ সেপ্টেম্বর ¯’ানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত গেজেটে স্বপদে বহাল হন ইমদাদুর রহমান মুকুল। স্বপদে বহাল হয়ে জমকালো আনুষ্ঠানিকতা ও মিষ্টি বিতরণ নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয় এলাকায়।
এরপর হাইকোর্টে ¯’গিতাদেশের বিরুদ্ধে গত ৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট আপীল বিভাগে দায়েরকৃত ১৪৪১ নং মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি মোঃ নুরুজ্জামান হাইকোর্টের ¯’গিতাদেশ বাতিল করেন এবং বরখাস্তের আদেশ বহাল করেন। সুপ্রিম কোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে গত ২২ নভেম্বর ¯’ানীয় সরকার মন্ত্রণালয় চেয়ারম্যান মুকুলকে বরখাস্তের আদেশ পুনরায় কার্যকর করার জন্য হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ‘হবিগঞ্জ ¯’ানীয় সরকার শাখার সহকারী কমিশনার রাজীব দাশ পুরকাস্ত স্বাক্ষরিত এক এক পত্রে ‘ইমদাদুর রহমান মুকুলের বরখাস্তের আদেশ পুনরায় কার্যকর করতে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়। ১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন এ আদেশ পুনরায় কার্যকর করেন। এছাড়া ৩ ডিসেম্বর থেকে গজনাইপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়ীত্ব পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে ইমদাদুর রহমান মুকুল বলেন, আমি এখনও কোন চিঠি পাইনি।
সরকারী আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইতিপূর্বে বিশেষ সভায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির পদ থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয় আলোচিত মুকুলকে। তাকে ¯’ায়ী বরখাস্ত করতেও রেজুলেশন করে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছে জেলা আওয়ামীলীগ। এ তথ্য নিশ্চিত করে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী বলেন, আওয়ামীলীগে কোন দুর্নীতিবাজদের ¯’ান নেই।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক বলেন- ইতোমধ্যে নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতিকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইমদাদুর রহমান মুকুলকে সকল প্রকার দলীয় ও প্রশাসনিক কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মুকুলকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন- তার বিরুদ্ধে দলীয় অধিকতর তদন্ত চলছে,তদন্তে প্রমাণিত হলে দল থেকে ¯’ায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান জানান, নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়ন পরিষদে ইমদাদুর রহমান মুকুলের বরখাস্ত সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া প্যানেল চেয়ারম্যান-১ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়ীত্ব পালন করবেন।

সবুজ সিলেট/০২ডিসেম্বর/সেলিম হাসান