কিশোর ফরহাদকে খুনের দায়ে ৩ জনের যাবজ্জীবন

21

সবুজ সিলেট ডেস্ক :: সিলেটে ছিনতাই ও ফরহাদ নামের এক কিশোর খুনের ঘটনায় ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন, ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার সিলেটের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শরিফ উদ্দিন এ রায় দেন। রায়ে একজনকে খালাস দেওয়া হয়।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামিরা হলো, সিলেটের ওসমানীনগর থানার রনাগলপুর গ্রামের নওয়াব আলীর ছেলে ফয়ছল আহমদ, সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানার দূর্গাপুর গ্রামের শৈলেন্দ্র দাসের ছেলে অমল কুমার দাস এবং ঢাকা জেলার কদমতলা থানার শ্যামপুর পালপাড়া গ্রামের হরিপদ দাসের ছেলে সুমন চন্দ্র দাস। রায় ঘোষণাকালে তিনজনই পলাতক ছিল। অপরদিকে খালাসপ্রাপ্ত আসামি নগরীর খাসদবীর এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে ফরহাদ আহমদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৬ আগষ্ট রাতে মোবাইল ছিনতাইকে কেন্দ্র করে নগরীর মাছুদিঘির পাড়ে প্রবাহ-৬০ নম্বর বাসার কলোনীর একটি কক্ষে ঝগড়ায় লিপ্ত হয় কয়েক যুবক। এক পর্যায়ে ওই কলোনীর বাসিন্দা জামালপুর জেলার সরিষা বাড়ি থানার বাইশি দক্ষিণ পাড়া গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে ফরহাদ হোসেনকে (১৬) নৃশংসভাবে খুন করে তার সহযোগীরা। ফরহাদের মৃতদেহ একটি কাঁথা দিয়ে ঢেকে রেখে তারা পালিয়ে যায়। খুনের ঘটনায় তখন কোতয়ালি থনার লামাবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন এসআই খায়রুল ইসলাম বাদল বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে কোতোয়ালি থানার তৎকালিন এসআই রকিবুল হক ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি ৪ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন।

পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. মফুর আলী জানান, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি চার জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানী ও ২৭ সাক্ষির মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত বুধবার তিন জনকে ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্থ করে যাবজ্জীবন করাদণ্ড ও জরিমানা প্রদান করেন।