কাতারের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ, ডাগআউটে জেমি ডে

5

স্পোর্টস ডেস্ক :: ১৯৭৯ সালে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ১-১ গোলে ড্রই কাতারের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য। ৪১ বছরের ব্যবধানে দু’দলের মধ্যে পার্থক্যও অনেক। এশিয়ান ফুটবলের পরাশক্তি কাতার, বিপরীতে দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল নিয়েই পড়ে আছে বাংলাদেশ। এক বছর আগে ঢাকায় বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কাতারের কাছে ২-০ গোলে হারলেও কাদা-পানির বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সেই বাস্তবতা এখন নেই। কারণ কাতারের বিপক্ষে আজ ম্যাচটি হবে দোহার আব্দুল্লাহ বিন খলিফা স্টেডিয়ামের মসৃণ মাঠে। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে রাত ১০টায়। এই ম্যাচে লাল-সবুজের ডাগআউটে থাকছেন দলের প্রধান কোচ জেমি ডে।

কাতার আর বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবধান যোজন যোজন। তাই ঢাকার মাঠের সেই ম্যাচ থেকে লড়াইয়ের প্রেরণা খুঁজে নেওয়া বাংলাদেশ শিবিরে আছে ভয়ও। কাতারের শক্তিশালী আক্রমণভাগের ঝড় সামলে নিতে প্রস্তুত তপু বর্মণ-বিশ্বনাথ ঘোষরাও। কাতার-ঝড় সামলে দোহা থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে ফেরার স্বপ্ন লাল-সবুজের দলটির। মূলত আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের মূল পরিকল্পনাই হলো গোল হজম না করা।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে যে আফগানিস্তানের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ, সেই দলটিকে দোহায় ছয় গোলে বিধ্বস্ত করেছিল কাতার। গ্রুপ ‘ই’তে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে টপারে থাকা মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি প্রতিপক্ষের জালে সবচেয়ে বেশি গোল দিয়েছে; ১১টি। আর এই গ্রুপে সবচেয়ে বেশি গোল হজম করেছে বাংলাদেশ; ৮টি। দিয়েছে মাত্র দুটি। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, আজকের ম্যাচটি হতে যাচ্ছে কাতারের আক্রমণভাগ বনাম বাংলাদেশের রক্ষণভাগ।

৪-১-৪-১ ফরমেশনে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। কাতারের আক্রমণ সামলানোর জন্য গোলপোস্টের নিচে আশরাফুল ইসলাম রানার সঙ্গে রক্ষণভাগে পরীক্ষা দিতে হবে তপু বর্মণ, বিশ্বনাথ ঘোষ, ইয়াসিনদের। কাতার সাধারণত ৩-৪-৩ ছকে খেলে থাকে। আক্রমণে একসঙ্গে সাতজন ওপরে চলে আসে। তখন রক্ষণভাগের ওপর চাপটা বেড়ে যায়। সেই চাপ যেন না বাড়ে, তাই মিডফিল্ড থেকে জামাল ভূঁইয়া এবং মানিক মোল্লাকেও আজ নিচে নামিয়ে খেলাবেন কোচ।

পুরো দলই জানে কাতার কতটা শক্তিশালী। একটু ছাড় দিলেই সবকিছু হয়ে যাবে এলোমেলো। আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম টার্গেটই হলো কাতারের মাঠে ড্র। সেটা করতে হলে প্রথম ২০ মিনিট গোল হজম করা যাবে না। আর জেমি ডের অধীনে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে প্রথম বিশ মিনিট খুব কমই গোল খেয়েছে বাংলাদেশ। মূলত প্রথমার্ধে কাতারকে আটকাতে পারলেই মানসিকভাবে আরও চাঙ্গা হবেন তপুরা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের লড়াই। তবে তপু-রানাদের মূল লক্ষ্য হলো শেষ পর্যন্ত লড়াই করা। হারার আগেই হেরে যেতে চায় না লাল-সবুজের দলটি। কাতার শক্তিশালী হলেও তাদের থামানো সম্ভব বলেই বিশ্বাস ফুটবলারদের।

  •