গবেষণাগারে তৈরি হচ্ছে মাংস

2

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
সিঙ্গাপুর বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে গবেষণাগারে তৈরি মুরগির মাংস বাজারে বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সান-ফ্রান্সিসকো ভিত্তিক ‘ইট জাস্ট’ কোম্পানি গবেষণাগারে ওই মাংস তৈরি করেছে।

সিঙ্গাপুরের ফুড এজেন্সির মূল্যায়নে এই মাংস নিরাপত্তার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হওয়ার পর এটি বিক্রির সবুজ সংকেত দিল দেশটি।

তারা বলছে, ভোক্তাদের স্বাস্থ্য, প্রাণী কল্যাণ এবং পরিবেশের সুরক্ষায় দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মাংসের বিকল্প খোঁজা হচ্ছে এবং সেই চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

অনেকে মাংসের বিকল্প হিসেবে উদ্ভিজ্জ আমিষের দিকে ঝুঁকছেন। সুপারমার্কেটের তাকে এবং রেস্তোরাঁর খাদ্যতালিকায় উদ্ভিদ থেকে পাওয়া নতুন নতুন আমিষ যুক্ত হচ্ছে।

কিন্তু তথাকথিত ‘ক্লিন অর কালচার্ড মিট’ যেটি ল্যাবে প্রাণীর মাংসপেশীর কোষ থেকে তৈরি করা হয় সেটা এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরেই ছিল। যদিও উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হওয়ায় সেটি এখনও সাধারণের হাতের নাগালের বাইরে রয়েছে।

বুধবার ‘ইট জাস্ট’ এর পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘‘বিশ্বে এই প্রথম খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী কোনও প্রতিষ্ঠান আমাদের তৈরি মাংস খাদ্যতালিকায় যোগ করার অনুমোদন দিয়ে বলেছে, এটা মানবদেহের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।

প্রাকৃতিক এবং উচ্চ মানসম্পন্ন ওই মাংস সরাসরি প্রাণী কোষ থেকে প্রস্তুত করা হয়। এই অনুমোদন সিঙ্গাপুরে স্বল্প আকারে হলেও বাণিজ্যিকভাবে আমাদের মাংস উৎপাদনের পথ খুলে দিয়েছে।”

ইট জাস্ট জানিয়েছে, তাদের তৈরি মাংস দিয়ে নাগেট বানিয়ে সেটি বাজারে বিক্রি করা হবে। এর আগে তারা প্রতিটি নাগেটের দাম নির্ধারণ করে ছিল ৫০ মার্কিন ডলার।

কিন্তু এখন দাম কমবে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী যশ টেট্রেক। তিনি বলেন, ‘‘খুব শিগগিরই সিঙ্গাপুরের একটি রেস্তোরাঁয় তাদের মাংসের তৈরি খাবার পাওয়া যাবে।”

তখন সেই মাংসের দাম প্রিমিয়াম মুরগির মাংসের দামের সমান হতে পারে। তবে ঠিক কবে নাগাদ রেস্তোরাঁয় ওই খাবার আসবে বা তার দাম কত হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনও তথ্য তিনি দেননি।

বিশ্বে ‍দুই ডজনের বেশি ফার্ম গবেষণাগারে মাছ, গরুর মাংস ও মুরগির মাংস তৈরির চেষ্টা করছে।

সবুজ সিলেট/ এস মায়াজ আহমদ তালহা