গোলাপগঞ্জ পৌর নির্বাচন; আ.লীগের ২ ও বিএনপির ১ সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা প্রচারণায় মাঠে

25

সৈয়দ জেলওয়ার হোসেন স্বপন, গোলাপগঞ্জ 
সিলেটের গোলাপগঞ্জে পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেয়র প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনার জন্য ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দোয়া ও সহযোগিতার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিশ্রæতির প্রদানের মাধ্যমে ভোটারদের আকৃষ্ট করছেন। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে থমকে গেছে বাংলাদেশ সহ পুরো বিশ্ব। এমন সংকটময় মুহূর্তের মধ্যেই পৌরসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। প্রাণঘাতী করোনাকে পিছিয়ে রেখে জীবনকে বাজি রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন।
গত বছর ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হয়। নিয়মানুযায়ী এ বছরের ডিসেম্বর মাসে এসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হবে। এবারে পৌরসভার নির্বাচন ৪টি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। তবে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের তালিকায় সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবুও সম্ভাব্য মেয়র, কাউন্সিলর ও মহিলা কাউিন্সিলরবৃন্দ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। প্রার্থীরা ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, বিয়ের অনুষ্ঠান, খেলাধূলা, জানাযার নামাজে অংশ গ্রহণ করতে দেখা যায় এবং পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে উঠান বৈঠক করতে দেখা যায়। সব মিলিয়ে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সকল ওয়ার্ডে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। শীতের হাওয়াও বইছে তবুও সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে-ময়দানে আগাম প্রচারে সরব হয়ে উঠেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভোটারদের কাছে নিজেদের পরিচয় ও কর্মকান্ড তুলে ধরার চেষ্টা করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
গোলাপগঞ্জ পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে সবচেয়ে বেশি তোড়জোড় চলছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে। মেয়র পদে আওয়ামীলীগের মনোয়ন দৌড়ে রয়েছে বর্তমান মেয়র, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাবেল ও সাবেক মেয়র, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ পাপলু। ইতোমধ্যে তারা কেন্দ্রে দৌড়ঝাপের পাশাপাশি পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে উঠান বৈঠক সহ বিভিন্ন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

গোলাপগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মেয়র পদটি রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দখলে। পৌরসভার উপ-নির্বাচনসহ গেল দুই নির্বাচনে নৌকার মাঝি ছিলেন জাকারিয়া আহমদ পাপলু। ২০১৫ সালে পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল জব্বার চৌধুরী বিজয়ী হন। ২০১৮সালের ৩১মে সিরাজুল জব্বার চৌধুরী মৃত্যুবরণ করলে ১১ জুলাই মেয়র পদটি শূন্য ঘোষনা করা হয়। পরে একই বছরের ৩ অক্টোবর উপ-নির্বাচনে জয়লাভ করেন আওয়ামী বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম রাবেল। এদিকে পৌরসভার মেয়রের আসনটি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। গত পৌর নির্বাচনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকায় তারা পরাজয় বরণ করে। কিন্তু এবার তারা একক প্রার্থী মনোনীত করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি বিএনপির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিনও রয়েছেন কোমর বেঁধে ভোট যুদ্ধে মাঠে। ভোটাররাও শাহিনকে নিয়ে হিসাব নিকাশ করছেন।

বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে যার নাম শুনা যাচ্ছে তিনি হলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন। ইতোমধ্যে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার পাশাপাশি পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে কৌশলী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে গোলাপগঞ্জ পৌর নির্বাচনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলকগুলোকে প্রার্থী দেবে কিনা এখনো কোনো আভাস পাওয়া যায়নি।

ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী ব্যতিত অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী কোন কার্যক্রম বা প্রচারণায় মাঠ পর্যায়ে দেখা যায়নি।
এবারের গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধির জন্য মাঠে রয়েছে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী গোলাপগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাবেল, আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর প্রার্থী সাবেক পৌর মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু ও বিএনপির অন্যতম নেতা গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন।

সবুজ সিলেট/০৫ ডিসেম্বর/সেলিম হাসান