বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী হ্যান্ডেল করছেন, ভাস্কর্য প্রসঙ্গে কাদের

8

সবুজ সিলেট ডেস্ক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা সরকারে আছি, আমাদের সব ব্যাপারে মাথা গরম করলে চলবে না। বিষয়টি হ্যান্ডেল করছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি করোনা মোকাবিলা করেছেন এবং সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিকূল অনেক পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এখানে এসেছেন। কাজেই তিনি জানেন কোন পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

শনিবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় অবিসংবাদিত এই নেতার মৃত্যুবার্ষিকীতে হাই কোর্ট সংলগ্ন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মাজারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত কর্মসূচিতে অংশ নেয়। ১৯৬৩ সালের এই দিনে লেবাননের বৈরুতের এক হোটেল কক্ষে নিঃসঙ্গ অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক গুরু পাকিস্তানি ও ঔপনিবেশিক আমলে গণতন্ত্রের জন্যই তিনি বারবার লড়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন এবং দেশ ত্যাগ পর্যন্ত করেছেন। তিনি বলতেন, গণতন্ত্রই আমার জীবনের ‍মূলমন্ত্র। শাসনতন্ত্রের প্রশ্নে জনগণের রায়ই শেষ কথা।’

তিনি বলেন, ‘অনেক চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করে আজ আমরা এ অবস্থায় এসেছি। বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যার পর ২১ বছর গণতন্ত্র শৃঙ্খল ছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার ছয় বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বদেশে ফিরে আসেন। ফিরে এসেই তার প্রথম কাজ ছিল গণতন্ত্রকে শৃঙ্খল মুক্ত করা। শৃঙ্খল মুক্তির জন্যই, গণতন্ত্রের জন্য তিনি লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন, সারাদেশ চষে বেড়িয়েছেন। জেল-জুলুম সয়েছেন এবং সে গণতন্ত্র আজ শৃঙ্খল মুক্ত হয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ এখনও পায়নি। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রয়াণ দিবসে আমাদের প্রতিজ্ঞা হবে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্র দেশে আছে; এটি একটি বিকাশমান ধারা। রাতারাতি গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় না। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। এদেশে একটি মহল আছে যারা মুখে গণতন্ত্র বললেও আচরণে, কর্মকাণ্ডে কখনও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয় তারা। সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আছে। এরা গণতন্ত্রের শত্রু। গণতন্ত্রের শত্রুরা এর বিকাশ চায় না।’

গণতন্ত্র একটা বিকাশমান প্রক্রিয়া- গণতন্ত্রেও ভুলক্রটি আছে দাবি বরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমেরিকার মতো দেশে নির্বাচনে যে গণতন্ত্রের ছবি আমরা দেখলাম তাতে আমাদের ভাবতে হবে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য এর অভ্যন্তরীণ চর্চাও করতে হবে। আমি মনে করি, বাংলাদেশে যেসব রাজনৈতিক দল আছে তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউই গণতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ চর্চা করে না। যাদের নিজেদের ঘরে গণতন্ত্র নেই তারা বাইরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে এটা আশা করা যায় না।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে ইসলামপন্থী দলগুলোর বিরোধিতা ও হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সরাসরি কারও সঙ্গে কোনো সংঘাতে যাব না। আমরা শুধু যুক্তি-তর্ক দিয়ে বলব, মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়। আজ যারা ভাস্কর্যের বিরেুদ্ধ কথা বলেন তারা কি জানে না পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভাস্কর্য আছে? সৌদি আরবসহ মুসলিম দেশগুলোতে ভাস্কর্য আছে। ওইসব দেশগুলোতে ভাস্কর্য যদি ইসলাম বিরোধী না হয়ে তাহলে বাংলাদেশে কেন হবে? এটা অযৌক্তিক।’

তার আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মাজারে কেন্দ্রীয় নেতারা শ্রদ্ধা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, এবিএম রিয়াজুল কবির কাওসার প্রমুখ।

সবুজ সিলেট/০৫ ডিসেম্বর/সেলিম হাসান