তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত তদন্তে ২ কমিটি

9

মাধবপুর প্রতিনিধি::
ঢাকা-সিলেট রেলপথের হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজীবাজার রেল স্টেশনের কাছে একটি তেলবাহী ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৫টি বগি লাইনচ্যুতের কারণ খতিয়ে দেখতে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ডিভিশনাল লেভেলে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি ও বিভাগীয় প্রধান চীফ মেকানিক্যাল কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৪ সদস্যের অপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল প্রধান প্রকৌশলী সুবক্তগীন জানান, কমিটি দুটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে রোববার দিবাগত পুরনো লাইন (৩নং) সংস্কার করে রাত ১টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। পড়ে বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়া ট্রেনগুলো নিজ নিজ গন্তব্যে ছেড়ে যায়।

প্রসঙ্গত, রোববার (৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর থেকে সিলেটের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী ডিজেলবাহী একটি ট্রেন দুপুর প্রায় ১২ টার দিকে শাহজীবাজার রেল স্টেশনের কাছে পৌঁছালে লাইনচ্যুত হয়ে রেল লাইনের পাশে পড়ে যায়। এ সময় ট্রেনে আগুন ধরে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ট্রেনের চালক হামিদ আলী জানান, রেল কর্মচারীরা ওই সময় লাইনের পয়েন্টের মেরামত কাজ করছিল। মেরামত কাজে ক্রটি থাকায় ইঞ্জিনসহ ৫টি বগি লাইনচ্যুত হয়।

তিনি জানান, ট্রেন যাত্রার সবুজ সংকেত স্বাভাবিক ছিল। রেলকর্মীদের কাজে ক্রটিজনিত কারণে ওই অনাকাঙ্ক্ষিত এ দুর্ঘটনা ঘটে।

চালক হামিদ আলী বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রাম থেকে বিক্রয় উপযোগী শোধন করা মেঘনা কোম্পানির তেল ভর্তি করে সিলেটে যাচ্ছিলাম। এ দুর্ঘটনায় লাইনচ্যুত দুটি বগি থেকে প্রায় ৭৮ হাজার ৪৮২ লিটার ডিজেল তেল এলাকার লোকজন ছোট ছোট কন্টিনার ও বালতি ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছিল।’

শাহজীবাজার রেল স্টেশন মাস্টার মোয়াজ্জেল হোসেন জানান, ‘ট্রেনের যাত্রা সংকেতে কোন ক্রটি ছিল না। তবে স্টেশনের কাছে মেরামত কাজে পয়েন্টের লোকজনদের ক্রটির কারণেই মূলত এ ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

সবুজ সিলেট/০৭ ডিসেম্বর/শামছুন নাহার রিমু

  •