শ্রীমঙ্গলে কৃষকের সবজি কালেকশন বাজারের একবছর পূর্তি!

58

সবুজ সিলেট ডেস্ক
আইডিই সূচনা,প্রজেক্ট এর মাধ্যমে, শ্রীমঙ্গলের আশিদ্রোন ইউনিয়নের পাড়েরটংগ্রাম ও মির্জাপুর ইউনিয়নের ছাতরাপট গ্রামে কৃষকের উৎপাদিত সবজি ও ফসল সরাসরি বিক্রি করার জন্য কালেকশন পয়েন্ট নামে বাজার সৃষ্টি করা হয় এক বছর আগে। এই বাজারে বাজার কমিটির সভাপতি সেক্রেটারি এবং মেম্বার সদস্য কৃষকরা এ নির্বাচিত হয়, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় ও স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বার সহ উক্ত বাজার এক বছর আগে উদ্বোধন করা হয় শুরু হয় এক স্বপ্নের পথ চলা।কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম পাওয়ার জন্য নিজেদের ভেতর থেকে পাইকার সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন জায়গায় পাইকারদের সাথে সমন্বয় সাধন করে প্রতিদিন সকালে তাদের উৎপাদিত ফসল নিয়ে হাট বসে।
প্রতিদিন ভোরবেলা কালেকশন বাজারে শুরু হয় কেনাবেচা!কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল নিজেদের বাজারে নিয়ে আসে,আর স্থানীয় এবং বাইরে থেকে পাইকাররা এই বাজারে এসে দরদামের মাধ্যমে সবজি ক্রয় করে ট্রাক যোগে নিয়ে যায় দেশের দূরদূরান্তে।
এ প্রসঙ্গে কালেকশন বাজার পারেরটংএর উদ্যোক্তা ও কৃষক,নাজমুল হাসান জানান, আমরা লালতীরের ভাল বীজ ব্যবহার করে এই গ্রামে বিপুল পরিমাণ টিয়া করলা,হিরো ঝিঙ্গাও নানা জাতের সবজি উৎপাদন করে আসছি অনেক বছর ধরে।আমাদের উৎপাদিত ফসল গুলো আমরা শ্রীমঙ্গলসহ অন্যান্য বাজারে পাইকারি বিক্রি করার জন্য নিয়ে যেতাম তখন আমাদের পরিবহনের সমস্যা ও উৎপাদিত ফসলের সঠিক দাম পেতে অনেক বিড়ম্বনা পেতে হতো,প্রায় সময়ই নানা দুর্যোগে আমরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতাম।তাছাড়া উপজেলা বাজারগুলোতে আমাদের কৃষকদের বসার জন্য কোন আলাদা জায়গা ও ছিলো না। আমরা পাইকারদের ইচেছর উপরই নির্ভর হয়ে থাকতাম।আজ আমাদের আর এই বিরম্বনা নেই! আমরা নিজেরাই নিজেদের বাজারে উৎপাদিত ফসল বিভিন্ন পাইকারদের সাথে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে থাকি নিজেদের বাজারেই।পাইকাররা দুর দুরান্ত দুরন্ত থেকে এসে তাদের পছন্দমতো সবজিগুলো সঠিক দরদাম করে নিয়ে যায়।
এ বাজারের মাধ্যমে আজ আমাদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক দাম পাই আমরা সবজিগুলো দ্রুত বিক্রি হওয়ার কারণে আমরা আমাদের দৈনিক কার্যক্রমে অনেক সময় সাশ্রয় হয়।এবং আর্থিকভাবে অনেক লাভবান হয়েছি আমরা।
এ বাজার সৃষ্টির শুরুতে যারা উদ্যোক্তা এবং কৃষকের পাশে থেকে সব সময় পরামর্শ দিয়েছেন আইডিই সূচনা প্রোজেক্টের কৃষিবিদ কানাইলাল দাস ও টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট ও হেলাল উদ্দিন ভূইয়া সিনিয়র টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট, তাহারা জানান,
কৃষকের আত্মনির্ভরশীল হওয়া এবং তাদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক দাম পাওয়ার জন্য স্থানীয় এই বাজার সৃষ্টি করা হয় এই প্রকল্পের মধ্যমে।এই বাজারে কৃষক নিজেরাই এখন তাদের ভেতর থেকে বীজ বিক্রেতা সৃষ্টি করেছে , বাজার কমিটিও তারাই, এতে অনেক উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে এতে কৃষকরা আর্থিক লাভবান ও দেশ সমৃদ্ধির পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আমরা আশা করি।

এ প্রসঙ্গে ভালো বীজের উৎস প্রতিষ্ঠান,লাল তীর সীড লিমিটেড এর ডিভিশনাল ম্যানেজার তাপস চক্রবর্তী জানান, এক বছর আগে কৃষকদের এই গ্রামে যে স্বপ্নের বীজ বুনেছি আমরা সে স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে।ভালো বীজ ব্যবহার করে তাদের উৎপাদিত ফসল আজ তারা নিজেরাই সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে নিজেদের বাজারে বিক্রি করছে।এতে একদিকে কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে তেমনি কৃষকের স্বার্থ ও সংরক্ষন হচ্ছে আবার তেমনি নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের শ্রমে ও পরিকল্পনায় আজ বাজারটি এক পরিপূর্ণ কৃষকের হাটে রূপান্তরিত হয়েছে।যা কৃষকের অধিকার বাস্তবায়নে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।

সবুজ সিলেট/০৭ ডিসেম্বর/সেলিম হাসান