শামসুদ্দিনে রোগীদের দেয়া হচ্ছে পঁচা-বাসি খাবার

16

সবুজ সিলেট ডেস্ক:
সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীদের খাবারের জন্য দেয়া হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ। এছাড়াও সরবরাহ করা হচ্ছে পঁচা-কলা, ফলমূল। বাদ যায়নি মাছ-মাংসও, এগুলো দেয়া হচ্ছে পঁচা-বাসি করে।

সব মিলিয়ে করোনার হাসপাতালে ভর্তি করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের বদলে দেয়া হচ্ছে পঁচা বাসি খাবার। আর এসব খাবার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা ফুড পয়জনিং জনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন।

রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন সকাল বেলা রোগীদের প্রতিদিন তিন পিস ব্রেড, দুইটি কলা, দুইটি ডিম এবং এক প্যাকেট দুধ সরবরাহ করা হয়। তবে গত কয়েকদিন থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ দুধের প্যাকেট রোগীদেরকে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া ১০ টাকা দামের একটি ব্রেড থেকে তিন-পিস ব্রেড আর পঁচা কলার সাথে দেয়া হচ্ছে দুটি ডিম।

অন্যদিকে দুপুরে রোগীদের দেয়া হচ্ছে ডাল, মাংস এবং সবজি। তবে এগুলো শুধু নামমাত্র দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীদের। রোগীরা বলছেন, ফার্মের মুরগির সাথে এক পিস আলু, পাতলা ডাল আর নামকাওয়াস্তে সবজি সরবরাহ করা হচ্ছে। শুধু এখানেই শেষ নয়, এই একই মেনু রোগীদেরকে প্রতিদিন দেয়া হচ্ছে।

এদিকে রাতের খাবারেও মাছের সাথে ছোট এক পিস আলু, সবজি আর ডাল দেয়া হচ্ছে। এসব খাবারের মান নিয়েও রোগীদের রয়েছে নানা অভিযোগ।

রোগীরা বলছেন, হাসপাতালের খাবারটা মোটামুটি মানের দেয়া হলেও বাহির হতে খাবার কেনার প্রয়োজন হয় না। কারণ করোনা রোগীরা বাইরে থেকে খাবার আনতে গেলে অন্যান্য মানুষ সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

তবে এসব শুনে অবাক হয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়। তিনি বলেন, কোনোভাবেই দেয়াদোর্ত্তীণ খাবার পরিবেশন করা যাবে না। কারণ এসব খাবার খেলে মানুষের নানা সমস্যা হতে পারে। আমি বিষয়টি নিয়ে এখনই আলোচনা করছি।

তিনি আরও বলেন, আমি সপ্তাহে অন্তত দুদিন হলেও রান্নাঘর পরিদর্শন করি। তবে কেন এমনটি হচ্ছে বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। কারণ একজন রোগী মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার খাবে কেন? আমরা তো টাকা দিয়ে খাবারগুলো কিনে আনছি। তাহলে মেয়াদ নাই জিনিস রোগীদের কেন সরবরাহ করবো। আর রোগীরা যখন মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার খাবে তখন মানসিকভাবে অস্বস্তি অনুভব করবে। এটি কোনো ভাবেই কাম্য নয়।