দরুদপাঠের সুফল

5

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক :: সৃষ্টিকুলের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর অসিলায় অস্তিত্ব লাভ করেছে সমগ্র বিশ্বজগৎ। মহান আল্লাহ তাঁকে অজস্র মর্যাদা, গুণ ও সৌন্দর্যে ভূষিত করেছেন। তাঁর নাম ও সুনামকে সমুন্নত ঘোষণা করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী! আমি কি আপনার নামকে বুলন্দ (উঁচু) করিনি?’ (সুরা : ইনশিরাহ, আয়াত : ৪)

মহানবী (সা.)-এর নাম বললে ও শুনলে তাঁর প্রতি দরুদ পড়া ওয়াজিব। মুখে উচ্চারণ করলে যেমন দরুদ ও সালাম ওয়াজিব, তেমনি কলমে লিখলেও ওয়াজিব। জীবনে একবার দরুদ পড়া ফরজ। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সেই ব্যক্তি অপমানিত হোক, যার সামনে আমার নাম উচ্চারণ করা হলে দরুদ পাঠ করে না।’ (মিশকাত, হাদিস : ৯২৭)

মহান আল্লাহ তাঁর হাবিবের নামকে কত ভাবে মর্যাদা দিয়েছেন এবং কত মাধ্যমে তার মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন সে এক দীর্ঘ আলোচনা। যার বিবরণ এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে সম্ভব নয়। তথাপি সারকথা হলো, তাঁর সম্মান বৃদ্ধি ও সুনাম প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহ তাআলা মহানবী (সা.)-এর নামকে নিজের নামের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। তাঁর আনুগত্যকে নিজের আনুগত্য বলে ঘোষণা করেছেন। তাঁর অনুসরণ আর অনুকরণকে আল্লাহর প্রিয়পাত্র হওয়ার উপায় বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

ঈমানের কলেমা থেকে আরম্ভ করে নামাজে পঠিতব্য দোয়াসমূহ যথা তাশাহহুদ ও দরুদ, আজানের বাক্যসমূহ, দাফনের দোয়া-কালাম—সব জায়গায়, সব ক্ষেত্রে নবীর নামকে মহান আল্লাহ নিজের নামের সঙ্গে একত্রে উল্লেখ করেছেন।

আল্লাহ ও মহানবীর নাম একত্রে উচ্চারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো সালাত (দরুদ) ও সালাম। প্রত্যেক সালাত ও সালামে আল্লাহর নবীর জন্য প্রার্থনা করা হচ্ছে। এ কারণে সালাত ও সালাম যেমন রাসুলে কারিম (সা.)-এর হক আদায়ের একটি সেরা আমল, তেমনি সেটি দোয়া ও প্রার্থনার সর্বোত্তম পদ্ধতি হিসেবে অনেক বড় ইবাদত। আর সে কারণেই কোনো ব্যক্তি যদি অজিফা ও দৈনন্দিন জিকির-আজকারের সবটুকু সময় সালাত ও সালামের আমলে ব্যয় করে তবে সে আল্লাহর ইবাদতে এবং আল্লাহর জিকিরেই মশগুল রয়েছে বলা হবে।

সালাত ও সালাম বা দরুদ শরিফের সৌন্দর্যের অন্যতম দিক হলো এতে একইসঙ্গে আল্লাহর ইবাদত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হক আদায়, উভয়ের প্রতি ভালোবাসায় দৃঢ়তা প্রকাশ পায়।

এর দ্বারা হাশরের ময়দানে মহানবী (সা.)-এর সুপারিশ লাভের সুযোগ নিহিত রয়েছে। এর বেশি আর কী চাই যে, নবীজীর প্রতি সালাত (দরুদ) ও সালামের বদৌলতে স্বয়ং আল্লাহ দরুদ পাঠকারী উম্মতের ওপর সালাত (রহমত) ও সালাম (শান্তি) বর্ষণ করেন!

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, মহান আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত করেন। (আল মুজামুল আউসাত, হাদিস : ৭২৩৫)। নামাজে পঠিত দরুদ শরিফ তো আমাদের সবারই মুখস্থ আছে। এ ছাড়া ছোট-বড় বিভিন্ন দরুদ আমরা বিভিন্নভাবে জানার চেষ্টা করব। যার জন্য যে দরুদ সহজ মনে হয় সেটি মুখস্থ করে বেশি বেশি পাঠ করার চেষ্টা অব্যাহত রাখব। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুন।