শহীদ মিনার নেই জকিগঞ্জের ১৪৬টি বিদ্যালয়ে

5


আল মামুন, জকিগঞ্জ
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কোনো শহীদ মিনার নেই। ফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারেন না স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনোটিতে কলাগাছ কিংবা বাঁশ-কাঠ দিয়ে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার বানিয়ে দিবস পালন করা হয়। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পতাকা উত্তোলন করে দিবস পালন করা হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা বঞ্ছিত হচ্ছে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শিক্ষা অর্জনে। জাতীয় দিবসের গুরুত্ব ও শহীদ সম্পর্কেও জানতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।
উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ১৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বাদেদেওরাইল, দাউদপুর ও পীরনগর এই ৩টি বিদ্যালয়ে স্থানীয়ভাবে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি ১৩৩টি বিদ্যালয়েই কোনো শহীদ মিনার নেই। উপজেলার ২৩টি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৩টি বিদ্যালয়েই শহীদ মিনার নেই। এমনকি উপজেলা কমপ্লেক্সের ভিতরে অবস্থিত জকিগঞ্জ গার্লস হাই স্কুলেও শহীদ মিনার নেই। শহীদ মিনার নেই পৌর এলাকার এক্সিলেন্স একাডেমী, আল ই্হসান একাডেমী, বারহাল ইউনিয়নের মৌলভী ছাইর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, বারহাল এহিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, কাজলসার ইউনয়নের লৎফুর রহমান হাই স্কুল এনড কলেজ, আব্দুর রাজ্জাক স্মৃতি বিদ্যানিকেতন, জকিগঞ্জ ইউনিয়নের আলোর মেলা হাই স্কুল, সুলতানপুর ইউনিয়নের জোবেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকপুর ইউনিয়নের ইছামতি উচ্চ বিদ্যালয় ও জিএমসি একাডেমীতে। স্থানীয় সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদার প্রতিষ্ঠিত হাফিজ মজুমদার বিদ্যানিকেতনেও শহীদ মিনার নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, আমার এলাকাটি রক্ষণশীল। বিদ্যালয় কমিটি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা লাগবে এখানে শহীদ মিনার করতে।
জকিগঞ্জ গার্লস হাই স্কুলের সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা ফারুক আহমদ বলেন, আমি উপজেলা পরিষদে যোগাযোগ করে সহযোগিতা পাইনি। ব্যক্তিগতভাবেই এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি শহীদ মিনার করতে। তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
ক্ষুদ্র মেরামত এবং স্থানীয় সহযোগিতার টাকায় সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার তৈরি করা সম্ভব।
মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো.কুতুব উদ্দিন বলেন, শিক্ষা প্রশাসন, অভিভাবক ও স্থানীয় বিত্তশালীগণ এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে পারেন। যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই তারা পার্শ্ববর্তী নিকটতম স্থানে যেখানে শহীদ মিনার আছে সেখানে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শহীদদের। পর্যায়ক্রমে সব বিদ্যালয়েই শহীদ মিনার নির্মিত হবে বলে আশাবাদী তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা বলেন, বিদ্যালয়গুলিতে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় শহীদ মিনারের চেষ্টা করবো।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.আব্দুছ সালাম বলেন, সত্যি কথা বলতে কি আসলে বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার না হবার মূল কারণ উদ্যোগের অভাব। আমরা প্রধান শিক্ষকদের উৎসাহিত করছি। আশা করছি মুজিব বর্ষেই শহীদ মিনারবিহীন বিদ্যালগুলিতে শহীদ মিনার হয়ে যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমী আক্তার বলেন, আমি জকিগঞ্জে নতুন এসেছি। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এতগুলি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকা দু:খজনক। আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলবো।

সবুজ সিলেট/১৩ ডিসেম্বর/সেলিম হাসান