গোলাপগঞ্জে ভূয়া তালাকনামা নিয়ে বর-কাজীর রশি টানাটানি…!

60


সৈয়দ জেলওয়ার হোসেন স্বপন, গোলাপগঞ্জ
ভূয়া তালাকনামা তৈরি করে বিয়ে সম্পাদন করায় বর ও কাজীর মধ্যে রশি টানাটানিতে তৃতীয় পক্ষের জীবন হলো সর্বনাশ। কাজীর দাবি বর তালাকনামা প্রদান করায় দ্বিতীয় বিয়ে সম্পাদনসহ কাবিন রেজিস্ট্রি করেছেন। অপর দিকে বরের দাবি কাজিকে টাকা দিয়েছেন বৈধ তালাকনামার মাধ্যমে বিয়ে সম্পাদন করতে। এনিয়ে এলাকায় তুলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি জাল বানোয়াট তালাকনামা তৈরিতে আসল অপরাধি কে হচ্ছেন বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি কামনা করছেন।
জানা যায়, উপজেলার রণকেলী দক্ষিণভাগ গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফ চৌধুরীর ছেলে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ও সাবেক বিমানের পাইলট রুকনুজ্জামান চৌধুরী প্রথম স্ত্রীকে অস্ট্রেলিয়ায় রেখে দেশে এসে চলতি বছর ১৯ জুন ৬২ বছর বয়সে একই উপজেলার গোলাপগঞ্জ ইউপির ছত্রিশ গ্রামের ছেরাগ উদ্দিনের কন্যা রওশান আরা আক্তার সুপি (২৩)কে ২য় বিয়ের জন্য বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। রুকনুজ্জানমান চৌধুরী প্রথম স্ত্রীকে তালাক প্রদান ও দ্বিতীয় বিয়ে সম্পাদনসহ রেজিস্ট্রি করার জন্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা প্রদান করেন গোলাপগঞ্জ পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের ম্যারেজ রেজিষ্টার কাজী শামিম আহমদকে। কাজী শামিম আহমদ কারসাজি করে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ডের ম্যারেজ রেজিষ্টার কার্যালয়ের ঠিকানা ও শীল ব্যবহার করে ভূয়া তালাকনামা তৈরি করে বিয়ে সম্পাদক করেছেন বলে জানা যায়। এদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ডের ম্যারেজ রেজিষ্টার কার্যালয়ে ওই তালাকনামার সত্যতা জানতে চাইলে ওই কার্যালয়ে সহকারি কাজী প্রতিবেদককে জানান, তালাকনামাটি তার কার্যালয়ের নয় সেটি ভূয়া ও বানোয়াট। এ বিষয়ে একটি প্রত্যায়ন পত্রও প্রদান করেছেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ম্যারেজ রেজিষ্টার অফিসের কাজী। এদিকে কাজী শামীম আহমদ জানান, তিনি তালাক নামার বিষয়ে কিছুই জানেন না। বর প্রবাসী রুকনুজ্জামান চৌধুরী তালাকনামা প্রদান করায় তিনি দ্বিতীয় বিয়ে সম্পাদনসহ কাবিন রেজিস্ট্রি করেছেন। এ নিয়ে বর-কাজীর মধ্যে রশি টানাটানির পাশাপাশি ভিতরে ভিতরে চলছে ¯œায়ু যুদ্ধ। এলাকায়ও তুলপাড় দেখা দিয়েছে। অপর দিকে দুই স্ত্রীর বিবাহ ও বিচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে পাশাপাশি বর-কাজীর রশি টানাটানিতে তৃতীয় পক্ষদের জীবন হলো সর্বনাশ। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনাসহ মুল রহস্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করার সু-দৃষ্টি কমনা করা হচ্ছে। মুলত আসল অপরাধি কে? সেটি জানতে চায় সচেতন মহল। এদিকে কাজী শামিম আহমদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।
এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের ম্যারেজ রেজিষ্টার কাজী শামিম আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, কাবিন ভূয়া নাকি সঠিক এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। বর রুকনুজ্জামান চৌধুরী তালাকনামা প্রদান করায় তিনি দ্বিতীয় বিয়ে সম্পাদনসহ কাবিন রেজিস্ট্রি করেছেন।
এ ব্যাপারে প্রবাসী রুকনুজ্জামানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি।

সবুজ সিলেট/১৪ ডিসেম্বর/হাসান

  •