কুলাউড়ায় ব্যবসায়ীকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখলো স্বজনরা

4

কুলাউড়া প্রতিনিধি
মৌলভীবাজা‌রের কুলাউড়া শহ‌রের ‘মিলি প্লাজা’র মনাফ টেলিকমের সত্ত্বাধিকারী ব্যবসায়ী আব্দুল মনাফ (৩২) নামের এক ব্যবসায়ীকে পূর্ব বিরোধের জেরে তাঁরই স্বজনরা নির্মমভাবে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখে।

নিখোঁজের চারদিন পর ১৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির ২০ গজ দূরত্বে একটি স্যাফটিক ট্যাঙ্কের পাশে গর্ত থেকে মাটিচাপা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

লাশ উদ্ধা‌রে উপ‌স্থিত ছি‌লেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ একেএম সফি আহমদ সলমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাওসার দস্তগীর, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিনয় ভূষণ রায়, ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলামসহ থানা পুলিশের সদস্যরা।

নিহত আব্দুল মনাফ উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের মীরশংকর গ্রামের বাসিন্দা মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আজির উদ্দিন ঘটনার সাথে জড়িত ৭ জনকে অভিযুক্ত করে বুধবার কুলাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে ৬জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- ভূকশিমইল ইউনিয়নের মীরশংকর গ্রামের মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে শাহিনুর রহমান শাহিদ (৪০), মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে নিহত মনাফের খালাতো ভাই সামছুদ্দিন (৪২), মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে আতিকুর রহমান চান মিয়া (৫০), মো. ফজলু মিয়া (৪৫), ফজলু মিয়ার ছেলে ফয়েজ আহমদ (২২), মৃত চুনু মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২৩)। তাঁরা সবাই নিহত ব্যবসায়ী আব্দুল মনাফের স্বজন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়ার উত্তরবাজারের মিলিপ্লাজাস্থ মনাফ টেলিকমের স্বত্বাধিকারী আব্দুল মনাফ। গত ১২ ডিসেম্বর শনিবার রাত ৯টার দিকে শহর থেকে বাজার নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন তিনি। পরে তাঁর পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর মনাফের কোন খোঁজ না পাওয়ায় তাঁর ভাই আজির উদ্দিন কুলাউড়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এরপর পুলিশ গোপন তথ্য মতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মামলার প্রধান আসামি ও নিহত মনাফের চাচাতো ভাই শাহিনুর রহমানের বসত ঘরের পিছনের টয়লেট ট্যাংকির ভেতর থেকে নিহত মনাফের ব্যবহৃত ম্যানিব্যাগ, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ কিছু আলামত উদ্ধার করে। তখন সন্দেহজনকভাবে শাহিনুরসহ ৪ জনকে থানায় এনে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাঁরা মনাফকে হত্যার কথা স্বীকার করে। শাহিনুরসহ আটককৃতরা পুলিশকে জানায় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার সাথে জড়িত সবাই মিলে ঘটনার দিন শনিবার রাত আনুমানিক ১০টায় মনাফ বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে পথরোধ করে এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মনাফের মাথায় স্বজোরে আঘাত করলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর সবাই মিলে লাশ শাহীনুরের ঘরের পিছনে ট্যাংকির পাশে একটি গর্তে মাটি চাপা দিয়ে পুঁতে রাখে। এ ঘটনার সাথে কারা জড়িত সেটাও আটককৃতরা জানায়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরো ২ জনকে আটক করে। সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তাঁদের দেয়া তথ্যমতে রাত ১১টার দিকে মাটি চাপা অবস্থায় গর্ত থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

কুলাউড়া থানার অফিসার্স ইনর্চাজ বিনয় ভূষণ রায় জানান, নিহত মনাফের লাশ ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৭ জনকে অভিযুক্ত করে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। জড়িত বাকি একজনকে ধরতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সবুজ সিলেট/ডিসেম্বর ১৭/ হাসান