জামালগঞ্জে টমেটো চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন নারীরা

34

মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
নারীদের হাতে কৃষির গোড়াপত্তন। অনেক আগের কথা। আদি যুগের কৃষি ছিল প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। তখনকার মানুষেরা জীবিকার প্রয়োজনে বনেজঙ্গলে ঘুরে বেড়াতেন। পশু শিকার ও ফলমূল সংগ্রহ করাই ছিল তাদের প্রধান কাজ। এসব কাজ করতেন পুরুষেরা। আর সন্তান লালন পালনের পাশাপাশি ফলের বীজ মাটিতে পুঁতে রাখতেন। বীজ হতে চারা বড় হয়ে যখন ফল ধারণ করত তখন তারা এ কাজে হতেন আরও উৎসাহিত। সেই থেকে কৃষিতে নারীদের পথ চলা। অবিরাম চলছে বংশ পরম্পরায়। পুরুষশাসিত সমাজে স্বীকৃতি না পেলেও কৃষিতে তাদের অবদান অনেক বেশি। বিশেষ করে সবজি চাষে।
জামালগঞ্জের সবজি চাষাবাদ অনেক বছরের পুরোনো। যদিও শুরুতে ধান, গম, ডাল, সরিষা, পাট আবাদ হতো বর্তমানে কম সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় নারীরা এখন সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। পুরুষের পাশাপাশি কাজ করার কারণে পরিবারে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। কৃষি বিভাগ ও পুরুষের পাশাপাশি নারীদের কৃষি কাজে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। জামালগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষাণীরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগাম টমেটো চাষে ঝুঁকছেন। ভালো বাজার দর পেতে শীতকালীন টমেটো বাজারে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কাশিপুর-গুচ্ছগ্রাম সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েক দফা বন্যায় সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। বর্ষাকালীন সবজি করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে লোকসান গুণতে হয়েছে অনেকের। ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আগাম টমেটো চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন এই এলাকার নারীরা। বাড়ির আশপাশসহ বিভিন্ন উঁচু জমিতে টমেটো চাষ করছেন তারা। রাতদিন সমান তালে জমির পরিচর্যা করে যাচ্ছেন তারা। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে টমেটো চাষের মাধ্যমে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষাণীরা।
কাশিপুর-গুচ্ছগ্রামের কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ২৫ সদস্যবিশিষ্ট কৃষক মাঠ স্কুলের সভাপতি শায়েস্তারা খাতুন জানান, অতি বৃষ্টির কারণে এ বছর সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই এলাকার নারী-পুরুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। এই এলাকার টমেটো ঢাকা, ভৈরব, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন জায়গায় চালান হয়ে থাকে। এখানকার নারী-পুরুষের আবাদকৃত সবজি চাষীদের বড় ধরনের চাহিদা মেটায়। পুরুষের পাশাপাশি আমরাও বাড়ির আঙ্গিনায় টমেটো, লাউ, শসা ইত্যাদি চাষ করে থাকি। বাড়ির আঙ্গিনায় ১০ শতক জায়গায় টমেটো চাষ করতে খরচ হয়েছে ৭ হাজার টাকা। দাম সঠিকভাবে পেলে ৪০-৪৫ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি হবে।
একই গ্রামের নূরজাহান বেগম জানান, তিনি ৩২ শত উঁচু জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। এই এলাকার অর্ধশত নারী-পুরুষ ব্যাপকভাবে টমেটোর আবাদ করেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে আগাম টমেটো বাজারে বিক্রি করে ৬০-৭০ হাজার টাকা আয় করতে পারব।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সালাহ উদ্দিন টিপু বলেন, এ উপজেলায় ৫০০ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ করা হয়েছে। কৃষি কাজে এ এলাকার পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও তৎপর। বিশেষ করে সবজি চাষে নারীরা বেশ সাফল্য এনে দিয়েছেন। আগাম টমেটো চাষে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা সমানতালে ঝুঁকছেন। কৃষি অফিস থেকে তাদেরকে সার-বীজ, কীটনাশকসহ নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে টমেটো চাষের জন্য সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়। সেলিমগঞ্জ-মন্নানঘাট এলাকাটি টমেটোর জন্য প্রসিদ্ধ এলাকা। এই এলাকার টমেটো উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

সবুজ সিলেট/২২ ডিসেম্বর/ হাসান