পরিবহণ শ্রমিকদের ‘ভয়ে’ বন্ধ ‘নগর এক্সপ্রেস’ সার্ভিস

18

সবুজ সিলেট ডেস্ক

সিলেটের পাথর কোয়ারি খুলে দেয়ার দাবিতে পরিবহন দ্বিতীয় দিনের মতো পরিবহণ ধর্মঘট চলছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬ টা থেকে ৭২ ঘণ্টার এ ধর্মঘট শুরু হয়েছিল। চলমান এ ধর্মঘটের ফলে সিলেট থেকে দুর পাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। ছেড়ে যায়নি আন্ত:জেলা বাসগুলোও। সব মিলিয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সিলেটের মানুষ।

এই ভোগান্তি আরও কয়েকগুণ বেড়ে নগরে সিএনজি অটোরিকশা না চলাচল করায়। তবে মানুষের এই সংকটে আশার আলো হতে পারতো ‘নগর এক্সপ্রেস’ সার্ভিস। নগরীর গণপরিবহন সঙ্কট দূর করতে ২০১৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর ৪১টি বাস নিয়ে এ পরিবহন সেবা চালু করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। এ সার্ভিস চালুর পর থেকে ভালো সাড়াও মেলে।

কিন্তু চলমান এ পরিবহণ ধর্মঘটের সময় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বাসগুলোও বন্ধ থাকায় সমালোচনার জড় বইছে। নগরবাসী বলছেন, পাথর কোয়ারি খুলে দেয়ার দাবিতে চলমান আন্দোলনের সময় ‘নগর এক্সপ্রেস’ বন্ধ রাখা কোনো ভাবেই উচিত হয়নি। বরং নগরবাসীর এই সংকটের সময় ‘নগর এক্সপ্রেস’ চালু রেখে নগরবাসীর পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিলো।

আর সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পুরো বিষয়টিই একটি দুর্বৃত্তায়ন। আর যারা করছে তারা কোনো না কোনো ভাবে সরকারের সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং সিলেটের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মিলে দ্রুত বিষয়টি সমাধান করা উচিত।

তবে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও ‘নগর এক্সপ্রেস’ সিটি বাস মালিক গ্রুপের আহ্বায়ক মখলিছুর রহমান কামরান জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে আমরা আমাদের বাসগুলো রাস্তায় নামিয়েছিলাম। কিন্তু পরে রাস্তায় রাস্তায় শ্রমিকরা আমাদের বাস আটকিয়ে রাখে। এবং যাত্রী, ড্রাইভারদেরকে লাঞ্ছিত করা শুরু করে। পরে আমরা বাস না চালানোর সিদ্ধান্ত নেই। এর বাইরে আর কোনো কারণ নেই বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে ধর্মঘট শুরু হয়েছে। চলবে ২৪ ডিসেম্বর শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত। ধর্মঘটে সিলেট বিভাগের তিন জেলায় বাস, ট্রাক, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, কোচ, লেগুনা, ট্যাংকলরি, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ সব গণপরিবহনের চলাচল বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়। তবে অ্যাম্বুলেন্স, বিদেশগামী যাত্রী, ফায়ার সার্ভিস, সংবাদপত্র ও জরুরি ওষুধ সরবরাহের গাড়ি ধর্মঘটের আওতামুক্ত থাকবে।

জানা গেছে, পাথর কোয়ারিগুলো থেকে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর আহরণের অনুমতির দাবিতে প্রায় তিন মাস ধরে সংগঠনটি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। সর্বশেষ গত ৩ ডিসেম্বর সিলেটের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মানববন্ধন করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটের পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার সময়সীমা দেওয়া হয়। এতে কোনো সাড়া না পেয়ে ধর্মঘট ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম দফায় ৯ ডিসেম্বর সিলেট জেলায় পণ্যবাহী পরিবহনে ৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘট পালন করা হয়। এ কর্মসূচি পালনের পরও দাবি আদায় না হওয়ায় সিলেট বিভাগে গণপরিবহনে ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছে।

সবুজ সিলেট/২৩ ডিসেম্বর/ হাসান