সিলেটে তৃতীয় দিনের মতো চলছে পরিবহন শ্রমিক ধর্মঘট

6

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটের বিভিন্ন পাথর কোয়ারি খুলে দেয়ার দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো ধর্মঘট পালন করছে সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। যাতে সমর্থন রয়েছে পরিবহন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোরও।

বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল থেকে তৃতীয় দিনের মতো সিলেট থেকে কোনও ধরনের দূরপাল্লার বাস দেশের কোথায় ছেড়ে যায়নি, বন্ধ রয়েছে সব ধরনের ট্রাক।

সকাল থেকে শ্রমিকরা নগরীর বিভিন্ন মোড়ে লাঠি-সোটা নিয়ে অবস্থান করছে। আগামীকাল ভোর ছয়টায় তাদের ৭২ ঘণ্টার এ কর্মসূচি শেষ হবে। অন্যদিকে চরম ভোগান্তিতে আছেন সাধারণ মানুষ।

এদিকে বুধবার রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সাথে বৈঠকে প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে দীর্ঘ ৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘটের পর আজ বৃহস্পতিবার থেকে সিলেটের সড়কে স্বাভাবিকভাবে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাচ্ছে সিলেট জেলা সিএনজি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

সিলেট জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানান, ট্রাফিক বিভাগ সিএনজি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলে তারা চলমান ধর্মঘট থেকে সরে এসেছেন। যার ফলে গত ৩ দিন থেকে চলমান পরিবহণ ধর্মঘটের কবল থেকে কিছুটা মুক্ত হয়েছেন সিলেটবাসী।

প্রসঙ্গত, বন্ধ থাকা পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে সিলেটে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে তিনদিনের ধর্মঘট শুরু করে ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদ, বাস মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও পাথর ব্যবসায়ী মালিক ঐক্য পরিষদ।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরিবেশের বিপর্যয় ঠেকাতে ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিলেটের জাফলং, ভোলাগঞ্জ, শাহ আরেফিন টিলা, বিছনাকান্দি ও লোভাছড়া—এই পাঁচ কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

এর আগে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের দায়ের করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলোতে সব ধরনের যন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন উচ্চ আদালত।

সরকারের নিষেধাজ্ঞার পর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আন্দোলন করে আসছেন পাথর ব্যবসায়ীরা। পরে আন্দোলনে তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হন পরিবহণ ব্যবসায়ীরা। একাধিক বিক্ষোভ-সমাবেশ করার পর মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার টানা ৭২ ঘণ্টার পরিবহণ ধর্মঘট ডাকা হয়।

সবুজ সিলেট/ডিসেম্বর ২৪/হাসান