ধর্মঘটে ২ দিন বন্ধ থাকার পর নগর এক্সপ্রেস ফের সড়কে

6

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটের বন্ধ থাকা কোয়ারিগুলো থেকে পাথর উত্তোলন শুরুর দাবিতে বিভাগজুড়ে পালন করা পরিবহন ধর্মঘটে বন্ধ থাকা নগর এক্সপ্রেস ফের সড়কে চলতে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে নগরীর বিভিন্ন সড়কে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত গণ পরিবহন সার্ভিসটির বেশ কয়েকটি বাস চলাচল করতে দেখা যায়।

এর আগে পাথর উত্তোলনের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে টানা ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দেয় সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদ। এতে অংশ নিয়েছে সিলেটের পরিবহন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংগঠনও। ফলে পণ্য ও যাত্রীবাহী সব ধরণের পরিবহনই বন্ধ রয়েছে বিভাগজুড়ে।

এদিকে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের এই আন্দোলনের কারণে মঙ্গলবার থেকেই বন্ধ করে দেয়া হয় নগরের একমাত্র গণপরিবহন ‌নগর এক্সপ্রেস’। সিলেট সিটি করপোরেশন পরিচালিত এই গণপরিবহন সেবাটি মঙ্গলবার সকাল থেকে বন্ধ থাকায় নগরের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের আন্দোলন নিয়ে সিলেটজুড়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। পাথর উত্তোলনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনকে আদালত অবমাননার সামিল হিসেবে মন্তব্য করেছেন সিলেটের ১০ বিশিষ্ট নাগরিক।

বুধবার রাতে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তারা বলেন, আদালতের কোনো নির্দেশনা বা রায়ের বিরুদ্ধে এ ধরণের কার্যক্রম আয়োজন, অংশগ্রহণ ও সমর্থন আদালত অবমাননার শামিল।

প্রসঙ্গত, বন্ধ থাকা পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে সিলেটে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে তিনদিনের ধর্মঘট শুরু করে ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদ, বাস মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও পাথর ব্যবসায়ী মালিক ঐক্য পরিষদ।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরিবেশের বিপর্যয় ঠেকাতে ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিলেটের জাফলং, ভোলাগঞ্জ, শাহ আরেফিন টিলা, বিছনাকান্দি ও লোভাছড়া—এই পাঁচ কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

এর আগে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের দায়ের করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলোতে সব ধরনের যন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন উচ্চ আদালত।

সরকারের নিষেধাজ্ঞার পর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আন্দোলন করে আসছেন পাথর ব্যবসায়ীরা। পরে আন্দোলনে তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হন পরিবহণ ব্যবসায়ীরা। একাধিক বিক্ষোভ-সমাবেশ করার পর মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার টানা ৭২ ঘণ্টার পরিবহণ ধর্মঘট ডাকা হয়।

সবুজ সিলেট/ডিসেম্বর ২৪/হাসান