শ্রীমঙ্গলে পটকা মাছ খেয়ে বউ-শাশুড়ির মৃত্যু

13
মৃতদের স্বজনেরা

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পটকা মাছ খেয়ে বউ ও শাশুড়ির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এক শিশু। বুধবার রাতে উপজেলার উত্তর ভাড়াউড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে তাদের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ভানুলাল রায়।

মৃতরা হলেন, শহরতলীর উত্তর ভাড়াউড়া এলাকার জয়নাল আবেদিনের স্ত্রী সাহিদা বেগম ( ৪০) এবং তার পুত্রবধূ নুরুননাহার (২৫)। এছাড়া নিহত নুরুননাহারের ছেলে নাইম (৮) অসুস্থ হয়ে শ্রীমঙ্গল সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় পরপরই রাতেই শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ভানুলাল রায়, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ) সার্কেল আশরাফুজ্জামান, শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস ছালেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ভানুলাল রায় জানান, বুধবার দুপুরে তাদের বাড়িতে এ মাছ রান্না হয়। মাছগুলো ওই পরিবারের ওই তিনজনই খেয়েছিলেন। জয়নাল মিয়া ও তার বড় ছেলে রুবেল মিয়া এ মাছ না খাওয়ায় তাদের কিছু হয়নি।

এদিকে রুমান নামে নিহতদের এক প্রতিবেশী জানান, গতকাল সকাল সাড়ে নয়টায় এক জেলে এই পটকা মাছ নিয়ে আসে। কেউ মাছ না রাখায় অনেক বার ঘুরাঘুরি করে আবার এই বাড়িতে এসে মাছ বিক্রি করে। এই জেলে তিন-চারদিন পরপর এসে এই অত্র এলাকায় মাছ বিক্রি করে যান।

এছাড়া জয়নাল মিয়া জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার পর দুপুরের ওই তিনজন পটকা মাছ খেয়েছিলেন। রাত ৮টার দিকে তাদের শরীরে জালাপোড়া শুরু হয়। এরপর রাত ১০টার দিকে বমি হয়। এর পরপরই মারা যান ওই দুইজন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, গতকাল রাতে আমরা খবর পেয়েছি উত্তরভাড়াউড়া গ্রামে দুজন মানুষ ফুটপয়জিংয়ে মারা গেছেন। একজন শিশু আমাদের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। শিশুটি শঙ্কামুক্ত রয়েছে। আমরা তার চিকিৎসা দিচ্ছি। জানতে পেরেছি তারা ফটকা মাছ খেয়েছে। মরদেহ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সেখানে জানা যাবে তারা পটকা মাছের বিষক্রিয়ায় মারা গেছে, নাকি অন্য কোনও কারণে মারা গেছে। আমরা জনগণকে বলবো পটকা মাছ একটি বিষাক্ত মাছ। এই মাছ না খাওয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ) সার্কেল আশরাফুজ্জামান বলেন, আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আজ বৃহস্পতিবার সকালে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে এ মাছে বিষের উপস্থিতি স্থান, ঋতু ও একক ভেদে ভিন্নতা দেখা যায়। বৈশাখ মাসে যে মাছটি বিষাক্ত, কার্তিক মাসে সেটাই বিষহীন হতে পারে। কোনো কোনো মাছের চামড়া আবার কোনোটির মাংস বিষাক্ত হয়ে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে পটকা মাছের চামড়া, যকৃত ও ডিম্বাশয়ে বিষের উপস্থিতি বেশি থাকে।

জাপানসহ বিভিন্ন দেশে এ মাছ খেয়ে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু ঘটে থাকে। বাংলাদেশেও অনেক মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে। ২০০৮ এ মাছ খেয়ে একটি পরিবারের সবার মৃত্যুর বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে মাছ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চালানো হয়।

এ মাছ কোথাও কোথাও ট্যাপা মাছ নামেও পরিচিত। বাংলাদেশের স্বাদু পানির ও লোনা পানির দুই জাতের পটকা মাছ পাওয়া যায় বলছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। সিলেট অঞ্চলে মাছটি ফুটকরা মাছ নামে পরিচিত।

সবুজ সিলেট/ডিসেম্বর ২৪/হাসান