বর্তমান মেয়র ইউনুছ স্ব-শিক্ষিত,আ’লীগের সিপার উচ্চ শিক্ষিত ও বিএনপির জুনেদ কৃষক

157


মোঃ নাজমুল ইসলাম,কুলাউড়া
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে গত ২২ ডিসেম্বর। দ্বিতীয় ধাপের ১৬ জানুয়ারির পৌরসভা নির্বাচনে এবার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন চার প্রার্থী। প্রত্যেক প্রার্থীই শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট কামনা করছেন। হলফনামায় দেয়া তথ্য অনুসারে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র শফি আলম ইউনুছ কোটিপতি আর আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সিপার উদ্দিন আহমদ উচ্চ শিক্ষিত ¯œাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। কুলাউড়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র শফি আলম ইউনুছ ২০১৫ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। বহিষ্কার হন দল থেকে। চলতি পৌরসভা নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন চেয়ে ফের মনোনয়ন বঞ্চিত হন। ২য় বারের মত বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে দিয়েছেন মনোনয়নপত্র জমা। হলফনামায় দেয়া তথ্য অনুসারে তিনি কোটিপতি।

আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী:
তৃতীয় বারের মত মেয়র পদে নির্বাচন করছেন বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শফি আলম ইউনুছ। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি স্ব-শিক্ষিত। তাঁর জন্ম ১৯৫৫ সালের ২০ জুন। তাঁর পেশা ঠিকাদারী, পরিবহন, মহাল ব্যবসা ও জোনাকী ব্রিক্স নামে একটি ইটের ভাটা রয়েছে। শফি আলম ইউনুছের বাৎসরিক আয় ৪০ লাখ ৭৩ হাজার ৯৬৬ টাকা। অস্থাবর সম্পদে নগদ অর্থসহ বিভিন্ন খাতে তার সম্পদ রয়েছে ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৪৬ হাজার ৫৭৫ টাকার। এছাড়া কৃষি জমি ২ হাজার ২০ শতক, অকৃষি জমি ৫৩ দশমিক ৬০ শতক, দালান ৩৫ শতক এবং বাড়ি ১৫ শতক। আয়ের বিপরীতে ব্যাংক ঋণ (প্রাইম ব্যাংক) কুলাউড়া শাখায় ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা রয়েছে। হলফনামায় মেয়র শফি আলম ইউনুছ উল্লেখ করেন তিনি মেয়র হিসেবে সম্মানী গ্রহণ করেন বছরে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ৫ বছরে শুধু সম্মানী থেকে নিয়েছেন ২৪ লাখ টাকা। অথচ বিগত নির্বাচনে তিনি শপথ করেন পৌরসভা থেকে প্রাপ্ত একগ্লাস পানিও তিনি পান করবেন না। সম্মানীর অর্থ তিনি দরিদ্র মানুষের গৃহ কর মওকুফে বিলিয়ে দেবেন। অন্যদিকে পাঁচ বছর আগে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন। তাঁর বার্ষিক আয় ৫৪ লাখ ৭ হাজার ৫৭০ টাকা। এ হিসাবে বর্তমানে তাঁর আয় গতবারের চেয়ে কিছুটা কমেছে। আর গতবার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ টাকার অংকে ৪ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার ৯০৪ টাকা দেখানো হয়। স্থাবর সম্পদে দেখানো হয় কৃষি জমি ৩০ একর, দালান ৩টি দালান, বাড়ি বা এপার্টমেন্টে ৪২ শতক। তবে তাঁর নামে কোন মামলা নেই। ব্যাংক ঋণ (প্রাইম ব্যাংক) ছিল ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা।
আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী:
প্রথমবারের মত নির্বাচনে লড়ছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী সিপার উদ্দিন আহমদ। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি ¯œাতকোত্তর পাস। তাঁর জন্ম ১৯৭৩ সালের ২৫ মে। তিনি কুলাউড়ার ভাটেরা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাৎসরিক আয় ৮ লাখ ৭৯ হাজার ৫২৮ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ২৬ লাখ ৭ হাজার ২৩২ টাকার। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ৯ একর কৃষি জমি, বাড়ি এক দশমিক ৭৬ একর তাঁর পিতার নামে রয়েছে। তাছাড়া এবিএম ছমরু মিয়া নামে একটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। জনতা ব্যাংক কুলাউড়া শাখায় ১০ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে। ৪টি ফৌজদারি মামলার সবগুলোই নিষ্পত্তি হয়েছে।
বিএনপি প্রার্থী:
চতুর্থ বারের মত নির্বাচন করছেন বিএনপি মনোনীত ও কুলাউড়া পৌরসভার সাবেক ২ বারের মেয়র কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ। তাঁর জন্ম ১৯৫৬ সালের ১০ জুন। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি এইচএসসি পাস। পেশায় কৃষক কামাল উদ্দিন আহমদের বাৎসরিক আয় ২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। রয়েছে ৮ লাখ ৪৭ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি। ২ হাজার ৫৭৫ একর অকৃষি জমি, দোকান ৫টি, ২০ দশমিক ৮৮ শতকের যৌথ মালিকানাধীন বাড়ি রয়েছে। দু’টি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতিপ্রাপ্ত। অন্যদিকে পাঁচ বছর আগে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর বাৎসরিক আয় ছিল ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদে দেখানো হয়- নগদ টাকার পরিমাণ ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা, ব্যাংক সঞ্চয়ী ১৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, এফডিআর ১৫ লক্ষ টাকা। স্ত্রীর নামে এফডিআর ৫ লক্ষ টাকা ও সঞ্চয়ী ছিল ৬৩ হাজার টাকা। স্বর্ণ ১৫ ভরি ছিল স্ত্রীর নামে। স্থাবর সম্পদে দেখানো হয়, কৃষি জমি ৩৬ শতক। স্ত্রীর নামে ৫ শতক।
স্বতন্ত্র প্রার্থীঃ
প্রথম বারের মত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন মোঃ শাজান মিয়া। তাঁর জন্ম ১৯৬৫ সালের ২০ ডিসেম্বর। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি ৫ম শ্রেণি পাস। মধ্যপ্রাচ্যের কাতার প্রবাসী হলেও হলফনামায় তিনি পেশা হিসেবে কৃষক উল্লেখ করেছেন। বাৎসরিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। যা বৈদেশিক রেমিট্যান্স থেকে আসে। অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকার। তবে তাঁর নামে কোনো মামলা নেই।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও পৌরসভা নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোঃ আহসান ইকবাল বলেন, আমরা ব্যালটের মাধ্যমে আগামী ১৬ জানুয়ারির কুলাউড়া পৌরসভা নির্বাচন একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিব। এতে ভোটার ও সাধারণ জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ৭ শত ৫৯।

সবুজ সিলেট/ডিসেম্বর ২৫/হাসান