গোলাপগঞ্জে আ.লীগের দুই বিদ্রোহী

7

সবুজ সিলেট ডেস্ক

তৃতীয় ধাপে সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ৬ জন। এই ৬ জনের নাম গত ৫ ডিসেম্বর কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এরপর গত ২১ ও ২২ ডিসেম্বর এই ৬ প্রার্থী কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। গত কয়েকদিন থেকে পৌর এলাকাজুড়ে এক উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায়। মনোনয়নপ্রত্যাশী ৬ সম্ভাব্য প্রার্থীসহ পৌর এলাকার সকল ভোটার, কর্মী, সমর্থকদের মাঝে অপেক্ষার প্রহর গুণতে দেখা যায়।

অবশেষে গতকাল শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) দেশের ৬৪টি পৌরসভার নৌকার মাঝিদের সঙ্গে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মাঝির নামও ঘোষণা করা হয়। দলীয় সিদ্ধান্তে নৌকা প্রতীক নিয়ে এবার নির্বাচন করবেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রুহেল আহমদ। গতকাল রাতে রুহেল আহমদের নাম ঘোষণার পর পরই তাকে স্বাগত জানাতে দলীয় নেতা-কর্মী, ভোটার-সমর্থকেরা তার বাড়িতে ভীড় জমান।

নৌকার মাঝি মো. রুহেল আহমদ বলেন, ‘আমি আশাবাদী ছিলাম দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। সে লক্ষ্যে আমি কাজ করে গেছি। ইনশাআল্লাহ আমি আগামী নির্বাচনে সকলের দোয়ায় জয়লাভ করব। দলীয় নেতা-কর্মীদের আমি ধন্যবাদ জানাই তারা আমাকে সবসময় সহযোগিতা করার জন্য।’

এদিকে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রুহেল আহমদকে নৌকার মাঝি ঘোষণা করার পর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী রিংকু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর রুহিন আহমদ খান এবং পৌর আওয়ামী লীগের নেতা মাজেদ শরীফ চৌধুরী। আর বাকি দুইজন গোলাপগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান পৌর মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন।

গোলাপগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল বলেন, ‘দল থেকে মনোনয়ন না পেলেও আমি বর্তমান মেয়র হিসেবে নির্বাচন করব, যেহেতু জনগণ আমাকে নির্বাচন করতে সবসময় সহযোগিতা করে যাচ্ছে। আর আমি আবারও মেয়র পদে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়ে পৌরসভার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।’

ব্যস্ততা যেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলুর নিত্যসঙ্গী। কখনও মোবাইলে কল দিয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় না। নির্বাচনের ব্যাপারে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে কল কেটে দেন। বক্তব্য নিতে এর আগে আরও একদিন সিলেট ভয়েস থেকে কল করা হলে সে সময়ও তিনি একই কথা বলেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী রিংকু বলেন, ‘দলের বাইরে গিয়ে আমি নির্বাচন করব না। আমি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। যেহেতু আমাকে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, তাই আমি নির্বাচন করব না।’ তার পাশে থাকার জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর রুহিন আহমদ খান বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ আমি কখনও অমান্য করব না। আমি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। যেহেতু আমি মনোনয়ন পাইনি তাই মেয়র পদে নির্বাচন করব না। দলের পক্ষে কাজ করে যাব।’

পৌর আওয়ামী লীগের নেতা মাজেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে এবং আমার বাবা প্রয়াত মেয়র সিরাজুল জব্বার চৌধুরীর আদর্শে বলীয়ান হয়ে মেয়র প্রার্থী হওয়ার জন্য দলীয় ফোরামে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। যেহেতু আমার সংগঠন আমাকে মনোনীত করেনি, তাই দলের কমান্ডের উর্ধ্বে গিয়ে নির্বাচন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’

সবুজ সিলেট/হাসান