সাংবাদিক সাকী ও তার স্ত্রীর উপর মাদক চক্রের হামলা : আটক ২

49
এই কামালের নেতৃত্বেই হামলা চালানো হয়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে

স্টাফ রিপোর্টার

সিলেটের কলবাখানি এলাকায় হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন চ্যানেল আইয়ের সিলেট প্রতিনিধি ও দৈনিক সবুজ সিলেট’র বার্তা সম্পাদক সাদিকুর রহমান সাকী। এ সময় সন্ত্রাসীরা তার স্ত্রী সাংবাদিক সুবর্ণা হামিদকেও মারধর করে। হামলাকারীরা মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়ীরা বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

হামলায় গুরুতর আহত সাকীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার দুপুরে এ হামলার ঘটনার ঘটে।

সাংবাদিক সাদিকুর রহমান সাকি জানিয়েছেন- তার বাসার পাশ্ববর্তী এলাকায় চিহিৃত জুয়াড়ী ও মাদক বিক্রেতা কামালের আস্তানা গড়ে তোলা হয়েছে। এ নিয়ে তিনি বাধা প্রদান করায় কয়েক মাস ধরে জুয়াড়ী ও মাদকসেবীদের সঙ্গে তার বিরোধ চলছে। এই অবস্থায় প্রায় ৬ মাস আগে পুলিশ জুয়াড়ীদের আস্তানায় অভিযান চালালে তারা আরো বেশি ক্ষুব্ধ হন। এই বিরোধের জের ধরে তার উপর হামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাকি জানান- সকাল থেকে তার বাসার সামনে কামালের নেতৃত্বে ২০-২২ জন জুয়াড়ী ও মাদকসেবী মহড়া দিচ্ছিলো। বেলা একটার দিকে তিনি বাসা থেকে বের হলে তাকে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এয়ারপোর্ট থানাকে অবগত করা হলে পুলিশ চলে আসে ঘটনাস্থলে। এ সময় পুলিশের সামনেই জুয়াড়ী ও মাদকসেবীরা তাদের উপর হামলা করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হামলাকারী কামাল ও আব্দুর রহমান টেংকুকে আটক করেছে।

এদিকে, খবর পেয়ে ৫ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ ঘটনাস্থলে যান। তিনি গিয়ে সাংবাদিক সাকি ও সুবর্না হামিদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সাকির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।

সাংবাদিক সুবর্ণা হামিদ জানিয়েছেন- এ নিয়ে তাদের উপর ৫ বার হামলার ঘটনা ঘটেছে। ৬ মাস আগের এক হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিলো। পরে এলাকার বাসিন্দা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য এডভোকেট লুৎফুর রহমান ও জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা লোকমান আহমদ বসে সমঝোতা শেষ করে দিয়েছিলেন। এরপর মাদকসেবী ও জুয়াড়ীরা কিছুদিন চুপ থাকলেও সম্প্রতি তারা আবার জোট বেধেছে। এর প্রতিবাদ করায় আবার হামলা চালানো হয়েছে। এ ব্যাপারে সাংবাদিক সুবর্ণা হামিদ বাদি হয়ে সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) আশরাফউল্লাহ তাহের জানিয়েছেন- হামলাকারী দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান চলছে। মামলা দায়েরের পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

সবুজ সিলেট/হাসান

  •