রাত পোহালেই শায়েস্তাগঞ্জ পৌর নির্বাচন : কে হচ্ছেন পৌর পিতা?

9

শায়েস্তাগঞ্জ প্রতিনিধি

রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হবে প্রথম ধাপে পৌরসভার ভোট। সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় ভোট শুরু হয়ে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। সবকটি পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ভোট নেওয়া হবে। এ ধাপের ২৪টি পৌরসভার মধ্যে ২৩টিতেই বড় এ দুই দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগসহ দুই জন স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও সেখানে বিএনপির কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। কয়েকটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন।

এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি হাতে নেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৭ ডিসেম্বর) কেন্দ্রে কেন্দ্রে ইভিএম পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। পাশাপাশি রয়েছে শঙ্কাও। বেশ কয়েকটি পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র ও কাউন্সিলদের সমর্থকদের মধ্যে গত কয়েকদিনের সংঘর্ষ এ শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

অবশ্য নির্বাচন কমিশন প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে— সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪টি পৌরসভায় মেয়র পদে ৯৩ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২৬৬ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৮০১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রথম ধাপের এ নির্বাচনি লড়াইয়ে অংশ নিয়েছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

এবার পৌরসভা নির্বাচনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। ইসির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নির্বাচন উপলক্ষে ভোটের দিন যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে, সেগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা পর্যন্ত সব নির্বাচনি এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলের ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। রবিবার মধ্যরাত থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় ট্রাক ও পিক-আপ চলাচলের ওপর বিধি-নিষেধ দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি প্রয়োজনের গাড়ি এবং হাইওয়েতে চলাচলকারী গাড়ি এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

জানা গেছে, ২৪টি পৌরসভায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৩১৯টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ২৪ হাজার ৮০৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৭ হাজার ৩৭ জন এবং নারী ভোটার ৩ লাখ ১৭ হাজার ৭৭০ জন। ভোটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১ হাজার ২৭৬ জন পুলিশ, ২ হাজার ৮৭১ জন আনসার, ৭২টি র‍্যাবের টিম, ৫০ প্লাটুন বিজিবি, মোবাইল ফোর্স ৭২টি এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স ২৪টি মোতায়েন থাকছে।

যে ২৪ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ

পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় সদর, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী, রংপুরের বদরগঞ্জ, কুড়িগ্রামের কুড়িগ্রাম সদর, রাজশাহীর পুঠিয়া ও কাটাখালী, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, পাবনার চাটমোহর, কুষ্টিয়ার খোকসা, চুয়াডাঙ্গার চুয়াডাঙ্গা সদর, খুলনার চালনা, বরগুনার বেতাগী, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, বরিশালের উজিরপুর ও বাকেরগঞ্জ, ময়মনসিংহের গফরগাঁও, নেত্রকোনার মদন, মানিকগঞ্জের মানিকগঞ্জ সদর, ঢাকার ধামরাই, সুনাগঞ্জের দিরাই, মৌলভীবাজারের বড়লেখা, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড। গত ২২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ২৫টি পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করেছিল ইসি। কিন্তু গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার একজন প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় নির্বাচন স্থগিত করেছে ইসি।

দেশে পৌরসভা রয়েছে মোট ৩২৯টি। প্রথম ধাপের মাধ্যমে পৌরসভায় সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হলো। ইতোমধ্যে তিন ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে ইসি। দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১৬ জানুয়ারি ৬১ পৌরসভায় এবং তৃতীয় ধাপে ৬৪ পৌরসভায় ৩০ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।