শখের বশে কবুতর পালন : বছরে আয় লাখ টাকা

64

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি :: কবুতরকে বলা হয় শান্তির প্রতীক। আগের যুগের রাজা-বাদশারা কবুতরের পায়ে বিভিন্ন বার্তা বেঁধে দিতেন। বলা যায় তখন বার্তাবাহক হিসেবে কবুতর ব্যবহার করা হতো। অন্যদিকে রোগীর পথ্য হিসেবে কবুতরের মাংস অনেক সুস্বাদু। শখের বশে অনেকেই কবুতর পালেন, আবার কবুতর বিক্রি করে অনেকেই লাভবান হয়েছেন। শৌখিন কবুতর পেশায় অনেকেরই সফলতা আছে। সেই রকম একজন সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাচনা বাজারের বাসিন্দা রিপন শিকদার। শখের বসে কবুতর পালন করে সফলতা পেয়েছেন রিপন। বর্তমানে কয়েক প্রজাতির শতাধিক কবুতরের মালিক তিনি। শুরুটা ৬ জোড়া কবুতর দিয়ে হলেও এখন তার খামারে কবুতরের সংখ্যা প্রায় ৬০ জোড়া। প্রায় দশ বছর আগে শুরু করা শখের কবুতর পালন এখন শখের জায়গায় সীমাবদ্ধ নেই। শখ থেকে তা পরিণত হয়েছে পেশায়। সব খরচ বাদে বর্তমানে তার মাসিক আয় ৮-১০ হাজার টাকা।

কবুতর পালনের গল্প জানতে চাইলে রিপন শিকদার জানান, ঢাকার গুলিস্তান কাপ্তান বাজার মার্কেটে কবুতর দেখে শখের বশে কবুতর পালনের ইচ্ছে হয় তার। তাই তিনি সেখান থেকে ৬ জোড়া কবুতরের বাচ্চা কিনে আনেন। এরপর দিনে দিনে ৬ জোড়া থেকে প্রতি কয়েক মাস অন্তর অন্তর বাড়তে থাকে জোড়ায় জোড়ায়। উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে কবুতর শৌখিত ক্রেতারা কবুতর কিনতে আসেন তার কাছে। তবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিনি অনেক কম দামে কবুতর বিক্রি করেন। ফেন্সি ও দেশি কবুতর পালন করার কারণ হিসেবে তিনি জানান, ফেন্সি কবুতরের চাহিদা অনেক বেশি। এ জাতের কবুতর খুব ভালো ডিম দেয় এবং বাচ্চা ফোটায়। দুই মাস অন্তর অন্তর এই ফেন্সি কবুতরের বাচ্চা বিক্রির উপযোগী হয়। তার খামারে গিয়ে দেখা যায়, বোম্বাই, চুইটাল, ছিলা, সাব-ছিলা, তামা-ছিলা, চুইন্না, ময়না, ঝাঁক, মুক্ষি, কামধম, লাহোরী, কালধম, ঝাঁকগোনা, সবুজ গোলা, ইস্প্রিং রেইসার, রেইসার কাপ, সাদা স্প্রিং সহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির কবুতর রয়েছে। তার খামারের কোন নাম না থাকলেও সকলের কাছে সাচনা বাজার রিপন শিকদারের কবুতরের খামার হিসেবে পরিচিত। তিনি তার দোকানের পেছনে কাঠ ও নেট দিয়ে বড় কাঁচা তৈরি করে এবং ছোট ছোট কাঁচার বাক্স তৈরি করে কবুতর পালন করে আসছেন।

তিনি জানান, উপজেলার অসংখ্য বাড়ির ছাদ কিংবা বাক্স তৈরি করে অনাহাসে কবুতর পালন করা যেতে পারে। তিনি কবুতরের পাশাপাশি বিদেশি, পাটনাইয়া ও তোতা ছাগলও পালন করেন। বাণিজ্যিকভাবে এই কবুতর পালন করা সম্ভব। বেকার ছেলেরা কবুতর পালন করে স্বনির্ভর হতে পারে। ভালো কোয়ালিটির দেশি কবুতরের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। বর্তমানে এক জোড়া দেশি কবুতর ৫০০ টাকা, কামধমের জোড়া ৩ হাজার টাকা, চিলা ৩ হাজার টাকা, রেইসার ৬ হাজার টাকা, লক্ষ্মী ৩ হাজার ৫০০ টাকা, গ্রিবাস ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়। কবুতরের খামার আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে কবুতর ব্যবসা করে প্রচুর টাকা রোজগার করা সম্ভব। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবুল কাসেম বলেন, অনেকেই বেকার ঘুরে সময় নষ্ট না করে দু’এক জোড়া কবুতর দিয়ে রিপন শিকদারের মতো লাভবান হতে পারেন। কবুতর বিনোদনের উৎস। এরা খুব শান্ত ও মায়াবী প্রজাতির পাখি। মানুষের সাহচর্য্য খুব পছন্দ করে। এ উপজেলায় অনেকেই কবুতর পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছে। যুব সমাজ বাজে নেশায় না জড়িয়ে অবসরে কবুতর পালন করতে পারেন। কবুতরের কোন অসুখ-বিসুখ হলে তাদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। কবুতরকে নিয়মিত কৃমিনাশক রাণীক্ষেত ও কলেরা রোগের ভেকসিন দিলে খামারে কবুতর রোকমুক্ত ও নিরাপদ থাকবে।

  •