মানুষকে ব্যঙ্গাত্মক নামে ডাকা মারাত্মক গুনাহ

19

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক :: একজন মানুষের জন্য জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সর্বমহলে চিরচেনা শব্দ হলো তার ‘নাম’। এমনকি মানুষ মারা গেলেও দুনিয়াতে অন্যদের মুখে মুখে রয়ে যায় তার নাম। একজন মানুষের কাছে তার সুন্দর নামটি হীরার চেয়েও দামি। কিন্তু এ নাম নিয়ে বর্তমান সমাজে প্রায়ই ব্যঙ্গ (ট্রল) করতে দেখা যায়। বিশেষ করে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বন্ধু মহলে একে অন্যকে নাম বিকৃত করে ডাকতে দেখা যায়। নাম নিয়ে ব্যঙ্গ করার এই প্রবণতা দিন দিন মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র।

ইসলামি শরিয়ত এভাবে মানুষের নাম নিয়ে ব্যঙ্গ করাকে মারাত্মক গুনাহ ও গর্হিত কাজ বলে ঘোষণা করেছে। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘হে ঈমানদাররা! কোনো মুমিন সম্প্রদায় যেন অপর কোনো মুমিন সম্প্রদায়কে উপহাস না করে; কেননা যাদের উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারীদের চেয়ে উত্তম হতে পারে এবং নারীরা যেন অন্য নারীদের উপহাস না করে; কেননা যাদের উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারিণীদের চেয়ে উত্তম হতে পারে। আর তোমরা একে অন্যের প্রতি দোষারোপ কোরো না এবং তোমরা একে অন্যকে মন্দ নামে ডেকো না; ঈমানের পর মন্দ নাম অতি নিকৃষ্ট। আর যারা তাওবা করে না তারাই তো জালিম।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১১)

এ আয়াতটি দুনিয়ার সব মুসলিমকে এক বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে দেওয়ার তূর্যধ্বনি। দুনিয়ার অন্য কোনো আদর্শ বা মত ও পথের অনুসারীদের মধ্যে এমন কোনো ভ্রাতৃত্ব বন্ধন পাওয়া যায় না, যা মুসলিমদের মধ্যে পাওয়া যায়। এটাও এই আয়াতের বরকতে সাধিত হয়েছে। এ নির্দেশের দাবি ও গুরুত্বসমূহ বহুসংখ্যক হাদিস দ্বারা রাসুল (সা.) বর্ণনা করেছেন। ওই সব হাদিসের আলোকে এই আয়াতের আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বোধগম্য হতে পারে। জারির ইবনে আবদুল্লাহ বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার থেকে তিনটি বিষয়ে ‘বাইআত’ নিয়েছেন। ‘এক. সালাত কায়েম করব। দুই. জাকাত আদায় করতে থাকব। তিন. প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনা করব।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৫)

অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকি এবং তার সঙ্গে লড়াই করা কুফুরি।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০৪৪)

অপর হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপর মুসলিমের জান, মাল ও ইজ্জত হারাম।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৪)

মহানবী (সা.) আরো বলেছেন, এক মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই। সে তার ওপরে জুলুম করে না, তাকে সহযোগিতা করা পরিত্যাগ করে না এবং তাকে লাঞ্ছিত ও হেয় করে না। কোনো ব্যক্তির জন্য তার কোনো মুসলিম ভাইকে হেয় ও ক্ষুদ্র জ্ঞান করার মতো অপকর্ম আর নেই। (মুসনাদে আহমাদ : ১৬/২৯৭, ৭৭৫৬)

রাসুল (সা.) আরো বলেন, ঈমানদারদের সঙ্গে অন্য একজন ঈমানদারের সম্পর্ক ঠিক তেমন যেমন দেহের সঙ্গে মাথার সম্পর্ক। সে ঈমানদারদের প্রতিটি দুঃখ-কষ্ট ঠিক অনুভব করে যেমন মাথা দেহের প্রতিটি অংশের ব্যথা অনুভব করে। (মুসনাদে আহমাদ : ৫/৩৪০)

অন্য হাদিসে এসেছে, একজন মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই, সে তার ওপর অত্যাচার করতে পারে না আবার তাকে ধ্বংসের মুখেও ঠেলে দিতে পারে না। (বুখারি, হাদিস : ২৪৪২)

হাদিসে আরো এসেছে, কোনো মুসলিম যখন তার ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে দোয়া করে তখন ফেরেশতা বলে, আমিন (কবুল করো) আর তোমার জন্যও তদ্রূপ হোক। (মুসলিম, হাদিস : ২৭৩২)

কাজেই কারো নাম বিকৃত করে কোনো ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা অথবা ব্যঙ্গ ও তুচ্ছজ্ঞান করে এমন খেতাব বের করে ডাকা, যা সে অপছন্দ করে না; এসব কর্মকাণ্ড কিছুতেই ইসলাম সমর্থন করে না।

অন্যের মনঃকষ্টের কারণ হয়, এমন যেকোনো কথা ও কাজ থেকে বেঁচে থাকার জোর তাগিদ দিয়েছে ইসলাম। আল্লাহ আমাদের সবাইকে একে অন্যের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা রেখে ও সঠিক সম্বোধনে ডাকার মানসিকতা তৈরি করে দিন। আমিন।

  •