ছাতক চেলা খালের উপর দৃষ্টিনন্দন ব্রীজ নির্মিত হওয়ায় তরান্বিত হচ্ছে এলাকাবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থা

18

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের মানুষজনের আশা ও আলোর প্রতিক আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘গ্রাম হবে শহর’ এ লক্ষ্যে জেলার ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের চেলা খালের উপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ব্রীজ গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এলাকার মানুষজন এখন স্বপ্ন দেখছেন । স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক নির্মিত এ দৃষ্টিনন্দন ব্রীজটি এলাকার প্রশ্চাৎপদ গ্রামীণ জনগোষ্ঠির যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ অবকাঠামো উন্নয়নে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন তারা।

জানা যায়, গত বছরের ৫ অক্টোবর এ ব্রীজটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ব্যারিষ্টার ইমান আলী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদসহ সরকারী কর্মকতাগণ উপস্থিত ছিলেন। গুরুত্বপূর্ন সেতু প্রকল্পের আওতায় জালালপুর- বরাটুকা সড়কের আনুজানি এলাকায় মঈনপুর-আলিগঞ্জ সড়কের চেলা খালের উপর ৬৬ মিটার দীর্ঘ এ ব্রীজটি নির্মিত হয়। ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত গার্ডার ব্রীজটির সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার কাজ আগামী জুনের মধ্যেই শেষ করতে চায় স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ লক্ষ্যে বুধবার ব্রীজ সংলগ্ন সড়ক পরিদর্শন করেন এলজিইডি সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় ছাতক উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর মিয়া, উপ সহকারী প্রকৌশলী রজত কান্তি দাস সহ প্রকৌশল বিভাগের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। নির্মিতব্য সড়কটি ব্রীজের উত্তর পার ধরে চেলারপাড় গ্রামের ভিতর দিয়ে মঈনপুর বাজার সংলগ্ন ব্রীজের সাথে মিলিত হবে। সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হলেমঈনপুর, কুরশি, চেলারপাড়, আনুজানানিসহ কয়েকটি গ্রামের বিপুল জনগোষ্ঠি সহজ যাতায়াত সুবিধা ভোগ করতে পারবে। এ ছাড়া সড়কের পাশ্ববর্তি এলাকায় অবস্থিত ২টি উচ্চ বিদ্যালয়, ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২টি মাদ্রাসার  ছাত্র-ছাত্রী যাতায়াতের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং সড়ক সংলগ্ন কয়েকটি ছোট বড় হাট-বাজার থাকায় কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করার সুবিধা নিতে পারবে। বর্তমানে স্কুল-মাদ্রাসা পড়–য়া শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন নির্মিত এ ব্রীজটিকে এলাকার আলোকবর্তিকা হিসেবে দেখছে। উপকার প্রত্যাশি চেলারপাড় গ্রামের সামছুল ইসলাম, নাজমুল হোসেন ও গোলাপ মিয়া জানান, নির্মিত আনুজানি ব্রীজ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবীর ফসল।

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক, আনুজানী গ্রামের ডাঃ নূর আলী, কিবরিয়া জানান, এ ব্রীজটি অত্র এলাকার গ্রামীণ জনগোষ্ঠি জীবন মান উন্নত হবে। অসুস্থ রোগীকে সহজেই চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। পল্লীবান্ধব বর্তমান সরকারের উন্নয়নের একটি মাইল ফলক হলো আনুজানী ব্রীজ। এলজিইডি সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম জানান, সড়কের এলাইনমেন্ট রেখেই ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়। উপর্যুপরি বন্যার কারনে সড়ক নির্মাণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। শীঘ্রই রাস্তার কাজ শুরু করা হবে। আগামী জুনের মধ্যে রাস্তার কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি ।

  •