হাওরপারের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে ধর্ষণ আতঙ্ক

23

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
হাওর জনপদ দিরাই উপজেলা। এই উপজেলার বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে সিলেট না হয় সুনামগঞ্জে পড়াশোনার জন্য যাতায়াত করতে হয়। ফলে তাদের একমাত্র ভরসা বাস, সিএনজি ও লেগুনা। কিন্তু এসব এখন হাওর পারের নারী শিক্ষর্থীদের জন্য আর নিরাপদ নয়। ফলে আতঙ্কে আছেন হাওরপাড়ের নারী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

গত শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় দিরাই উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার দিকে তাকালেই পরিস্থিতি বোঝা যায়। নিজেকে বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত চলন্ত বাস থেকে লাফ দিতে হয় তাকে। বর্তমানে তিনি মাথায় আঘাত নিয়ে সিলেটের ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

বাসে কলেজ ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন এলাকাবাসী ও স্বজনরা।

এলাকাবাসী জানান, আমরা হাওর পারের মানুষ, ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য সিলেট না হয় সুনামগঞ্জে পাঠাতে হয়। কিন্তু শিক্ষিত হতে গিয়ে যদি ধর্ষণের শিকার হতে হয় তাহলে কোন ভরসায় আমরা মেয়েদেরকে পড়াশোনা করাব?

দিরাই উপজেলার বাসিন্দা মনু মিয়া বলেন, গতকাল যে ঘটনা ঘটেছে সেটা বলার মতো ভাষা আমার কাছে নেই। আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই ওই চালক এবং হেলপারকে এমন শাস্তি দেয়া হোক যা ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

দিরাইয়ের বাসিন্দা জিন্নাত মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের সময় যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল না বলে আমরা পড়াশোনা করতে পারিনি। এখন আমার বড় মেয়ে সিলেট এমসি কলেজে পড়ে। গাড়ি ছাড়া সিলেটে যাওয়ার কোনো পথ নেই। কিন্তু দেশে তো মেয়েদের নিরাপত্তা নেই, এখন কী করব বুঝতে পারছি না।

ভুক্তভোগী ওই কলেজছাত্রীর বাবা কাছে বলেন, আমার মেয়ে গতকাল চলন্ত বাসে যে ঘটনার শিকার হয়েছে আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করি।