নির্দেশ অমান্য করায় ক্ষেপলেন আরিফ

51

স্টাফ রিপোর্টার :: নগরীতে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ও রিকশা মালিক-চালক মুখোমুখী অবস্থান নিয়েছেন। নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারকে যানজটমুক্ত করা ও রাস্তায় নগরবাসীর স্বাচ্ছন্দ্য চলাচলের সুবিধার্থে বন্দরবাজার-চৌহাট্রা সড়কে রিকশা সহ কিছু যানবাহন বন্ধের উদ্যোগে নিয়েছে সিসিক। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ রিকশা চালক ও মালিকরা।

তারা সিসিকের এ সিদ্ধান্তের প্রত্যাহারের দাবিতে রাজপথে মিছিল-সমাবেশ করে। তারা চায় জিন্দাবাজারে রিকশা চলাচল অব্যাহত রাখতে।

শুক্রবার সকাল থেকে জিন্দাবাজার-বন্দরবাজার এলাকায় রিকশা, ভ্যান ও ঠেলাগাড়ি চলাচল করতে দেখা যায়।

শুক্রবারের দিন বন্ধ থাকায় অভিযান চালাতে পারেনি সিসিক। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা আমাদের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে কাজ করব। নির্দেশনা মানছেন না অনেকেই তা আমাদের নজরে এসেছে। শনিবার (২ জানুয়ারি) সিসিক সকাল থেকে অভিযান শুরু করবে। এছাড়াও বিকল্প পন্থা অবলম্ব করবে সিসিক।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় নগরীর জিতু মিয়ার পয়েন্টে রিকশাচালক ও মালিকরা সিসিকের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এসময় বক্তারা বলেন, সিলেট সিটি কর্তৃপক্ষ বন্দরবাজার-চৌহাট্টা সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। অনতিবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। এর দু’দিন আগে ২৮ ডিসেম্বর একই দাবীতে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন রিকশাচালক ও মালিকরা। তাদের দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেয় সিলেট জেলা রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি. নং চট্ট-১৬৬৯।

এদিকে, নগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে জিন্দাবাজারকে যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে সিসিক। জিন্দাবাজার ছুয়ে যাওয়া কোর্ট পয়েন্ট-চৌহাট্টা-আম্বরখানা সড়কের মধ্যখানে ডিভাইডার দিয়ে সেখানে বসানো শুরু হয়েছে ৭ ফিট উচ্চতার কারুকাজ করা গ্রিল। পাশাপাশি ডিভাইডারে লাগানো হচ্ছে গাঁদা ফুল। এর আগে দুপাশের বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে খুঁটি ও তারের জঞ্জালবিহীন করা হয়েছে সড়কটিকে।

শুধু ডিভাইরাডারে খুঁটি রাখা হয়েছে ইমার্জেন্সি বিদ্যুৎ লাইনের জন্য। বৈদ্যুতিকৎ তারসহ বাকি সব কেবল লাইন নেয়া হয়েছে মাটির নিচ দিয়ে। তাই দিন যতই যাচ্ছে সড়কটির সৌন্দর্য বাড়ছে এবং আকর্ষিত করছে এ সড়কে চলাচালকারী জনসাধারণ এবং নগরবাসীকে। এ এলাকাকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষে সড়কটিকে ব্যতিক্রমী করার উদ্যোগ হিসেবে বন্ধ করা হচ্ছে রিকশাসহ কয়েকটি গাড়ির চলাচল। ইংরেজি বছরের প্রথম দিন থেকে কোর্ট পয়েন্ট থেকে চৌহাট্টা পর্যন্ত রিকশা, ঠেলা, ভ্যান গাড়ি ও লেগুনা চলাচল বন্ধ করছে সিসিক।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একাধিক দিন নগরীতে মাইকিং করা হয়েছে এবং গত সপ্তাহে এ সড়কে নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ডও গেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে সিসিকের সিদ্ধান্ত মানতে চাননা রিক্সাচালক ও মালিকরা। তারা এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলন করছেন। সিসিক এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে নগরীর রিকশাচালক ও মালিকরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করছেন।

সবুজ সিলেট/ ০১ জানুয়ারি/ এহিয়া