মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে

4

সবুজ সিলেট ডেস্ক::
পুলিশ বাহিনীর প্রতি মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার (৩ ডিসেম্বর) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ৩৭তম বিসিএস-পুলিশ ব্যাচের শিক্ষানবীশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তিনি এই আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘তোমরা জনগণের পুলিশ’ বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে। আমরা গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে দেশের মানুষের জীবনের শান্তি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।’

জাতির পিতার চিন্তার বাস্তবায়ন করতে হলে পুলিশ বাহিনীর অনেক দায়িত্ব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি এই দায়িত্বটা তোমরা পালন করবে। তোমাদের শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, সততা এবং নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে চলতে হবে। সব সময় দেশের মানুষের পাশে থাকতে হবে। মানুষের সেবা করতে হবে। মানুষের সেবা করাটাই তোমাদের কর্তব্য। সেটা মনে রাখতে হবে। অসহায়, বিপন্ন ও বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি আন্তরিকভাবে সহযোগিতা ও মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং সম্ভ্রমহারানো দুই লাখ মা-বোনের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার পাশপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার কথা তুলে ধরে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

এ সময় শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতার আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের চাওয়ায় আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে দেশে ফেরার কথাও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের পর গণতন্ত্র ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে বন্দি হয়ে গিয়েছিল। জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ছিল না। অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে, যেন জনগণ এই স্বাধীনতার সুফল পায়, উন্নত জীবন লাভ করে। সরকার সেদিকে লক্ষ রেখে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীকে বঙ্গবন্ধু আহ্বান জানিয়েছিলেন– পুলিশকে মানুষের আস্থা, বিশ্বাস অর্জন করতে হবে, মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। আর মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে পারলে, আস্থা, বিশ্বাস অর্জন করতে পারলে মানুষকে সঙ্গে নিয়েই এদেশে যেকোনও অপরাধ দমন করা যাবে। কাজেই সেইভাবেই নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’

১৯৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি জাতির পিতা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ সপ্তাহে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে গিয়ে পুলিশের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বলেও জানান শেখ হাসিনা। সরকার প্রধান বলেন, ‘নবীন পুলিশ অফিসাররা যে শপথ গ্রহণ করেছো, সেই শপথ নিয়েই তোমাদের চলতে হবে। সেই সঙ্গে জাতির পিতার এই নির্দেশনাগুলোও মেনে চলতে হবে।’

পুলিশ বাহিনীর উন্নয়নে জাতির পিতার নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরার পাশপাশি পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রশিক্ষণে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী পুলিশ সদস্যদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান পদক প্রদান করেন।

রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি প্রান্তে এই সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সবুজ সিলেট/ ০৩ জানুয়ারি/শামছুন নাহার রিমু

  •