সিডনির দর্শকরা বরাবরই এমন আচরণ করে, বর্ণবাদ নিয়ে অশ্বিন

2

স্পোর্টস ডেস্ক :: করোনাকালে জমে উঠেছে বোর্ডার-গাভাস্কার সিরিজ। প্রথম টেস্টে অজিদের জয়। দ্বিতীয় টেস্টে সফরকারী ভারতের ঘুরে দাঁড়ানো। এর মধ্যে সিডনিতে চলছে তৃতীয় টেস্ট দিয়ে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই। তবে তৃতীয় টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে লড়াই ছাপিয়ে আলোচনায় অজি সমর্থকদের বর্ণবাদী আচরণ।

ফিল্ডিংয়ের সময় ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ সিরাজকে ‘বানর’ বলে অবজ্ঞা করেন গ্যালারির খুব কাছাকাছি থাকা কিছু দর্শক। পরে সিরাজের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হবে বলেও জানানো হয়েছে। এ নিয়ে রোববার দিন শেষে কথা বলেছেন ভারতীয় স্পিনার রবিশচন্দন অশ্বিন। তার মতে, সিডনির দর্শকরা বরাবরই এমন আচরণ করে।

অশ্বিন বলেন, ‘দেখুন, আমি বিশেষ একটা দিক নিয়ে কথা বলতে চাই। এটা আমার চতুর্থ অস্ট্রেলিয়া সফর। বিশেষ করে সিডনিতে। এখানে এমন আচরণের মুখোমুখি আমরা আগেও হয়েছি। আমার আগের দু-একটা ঘটনার কথা মনে আছে। মাঠের কাছাকাছি বসা দর্শকরা এমন আচরণ করে। এর আগে খেলোয়াড়দেরও এ নিয়ে মাঠেই কথা বলতে দেখা গেছে।

তবে এবার তারা একটা ধাপ ওপরে গিয়েই খারাপ আচরণটা করেছে। বর্ণবাদী মন্তব্য করেছে। এরই মধ্যে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এসব আমরা অনেক দেখিছি। কিন্তু এই পর্যায়ে এসে, এই বয়সে এসে এগুলো আর মেনে নেওয়া যায় না, যাচ্ছে না। এটা শক্ত হাতে থামাতে হবে। পুনঃরায় যেন এমন কিছু না ঘটে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’

মেলবোর্ন কিংবা অ্যাডিলেড এমন নয় বলেও উল্লেখ করেন অশ্বিন। তার মতে, ওই দুই অঞ্চলের দর্শক এতোটা সহিংস না। কারণটা অবশ্য জানা নেই ভারতীয় স্পিনারের। তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করেছি, দর্শকদের নির্দিষ্ট একটা অংশের মধ্যে এমন আচরণ করতে দেখা যায়। এটা হতাশার ব্যাপার। শুধু হতাশ বললে অবশ্য খুব হালকা শোনায়।’

শনিবার দর্শকরা সিরাজের সঙ্গে বর্ণবাদী আচরণ করার পরে রাহানে, রোহিত এবং অশ্বিন মিলে আম্পায়ারকে জানান। প্রথমে সিরাজ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। সেজন্য অশ্বিন ভারতীয় পেসারকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। তার মতে, এখনকার নতুন ক্রিকেটাররাও ভালো-খারাপ আচরণ সম্পর্কে দৃঢ় অবস্থান নিচ্ছেন, বিষয়টি খুবই ভালো।

অশ্বিন জানান, ২০১১-১২ এর দিকে যখন ভারতীয় দলে নতুন এসেছেন, তখন বর্ণবাদ নিয়ে তার ভালো ধারণা ছিল না। মানুষ তাকে নিয়ে হাসাহাসি করছে, তাকে অবজ্ঞা করছে, এটা আবার প্রকাশ্যে অন্যকে বলা। সেটা শোনার পরে কিছু মানুষ আবার অবজ্ঞাসূচক হাসি দেবে, সেটা হজম করা, এগুলোর কিভাবে সামলাতে হবে তিনি জানতেন না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি জেনেছেন। তিনি চান না, সামনের কোন সফরে এমন কিছু ঘটুক।