বেদখল ছাতক রেলওয়ে কলোনী: গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছে সরকার

11


বিশেষ প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ :: সুনামগঞ্জের ছাতক বাজার রেলওয়ের সরকারি কলোনীর কোয়ার্টারগুলো এখন অবৈধ লোকজনের দখলে রয়েছে। দীঘদিন ধরে কর্মচারী-শ্রমিকদের আবাসিক কলোনীগুলোতে বহিরাগত লোকজন বসবাস করলেও রেলওয়ে বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারী নেই।

ফলে এখানকার অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। এখানে কেউ রেলওয়ে শ্রমিকদের ম্যানেজ করে বসাবাস করছেন, আবার কেউ শ্রমিকদের নামে বাসা ভাড়া নিয়েও স্বপরিবারে বছরের পর বছর বসবাস করছেন। আর এ কারনে এসব সরকারী কোয়ার্টারগুলোর গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রতিমাসেই লাখ লাখ পরিশোধ করতে হচ্ছে স্থানীয় ছাতক রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে। এছাড়াও রেলওয়ে বিশাল এলাকা জুড়ে অনেক পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ ভবনগুলো সংস্কার না করায় সরকারি সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে।

দখল হয়ে যাওয়া রেলওয়ে সরকারি অনেক বাসাগুলো এখন মাদকসেবী ও অপরাধীদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রেলওয়ের আবাসিক কলোনীর আশ-পাশের সীমানায় দেয়াল নির্মাণ করা হলেও পরিত্যক্ত পাকা ভবন গুলোর কোন সংস্কার কাজ করা হয়নি। ফলে অরক্ষিত অবস্থায় সরকারি কোয়ার্টারগুলো বেদখলে চলে গেছে। এসব দখলকারীদের বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারনে রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ বা আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

সরজমিনে রেলওয়ে নরকারী কলোনীর আবাসিক এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোয়ার্টাারগুলোর অনেক পরিত্যক্ত ভবনে বন-জঙ্গল আর লতা-পাতার ঘিরে থাকায় বিশাক্ত সাপের আভাসস্থল তৈরী হয়েছে। কিছু কিছু পরিত্যক্ত ভবনে অবশ্য এলাকার বেশ কয়েকটি বস্তুহারা ছিন্নমুল লোকজন পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করছেন। পরিত্যক্ত ভবনের বসবাসকারী একাধিক পরিবার জানান, এ বাসাগুলোর দরজা-জানালা নেই, তারা এখানে বিনা ভাড়ায় বসবাস করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছাতক রেলওয়ের সরকারি আবাসিক এলাকায় (বিআর) কংক্রিট স্লিপার কারখানার ও ছাতক বাজার রেল ষ্টেশনে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য এখানে রেলওয়ের দেড় শতাধিক বিভিন্ন শ্রেনীর একতলা বিশিষ্ট বাসা ও কয়েকটি ২য় ও ৩য় তলা ভবন রয়েছে। এসব সরকারি বাস ভবনের বেশ কয়েকটি একতলা ভবন বছরের পর বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে থাকায় এ বাসাগুলোর দরজা-জানালা অনেক আগেই চুরি হয়ে গেছে। এর মধ্যে রেলওয়ে ষ্টেশন ও রোপওয়ের প্রায় ২০জন শ্রমিক-কর্মচারী সরকারি বাসায় বসবাস করছেন। রেলওয়ে স্লিপার কারখানার ২৫/৩০জন শ্রমিক-কর্মচারী সরকারী বাসায় অধিকাংশই পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। রেল ষ্টেশনের ৩/৪জন শ্রমিক তাদের পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। রেল ষ্টেশনের শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দকৃত ১০/১২টি বাসা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়াও প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তা না থাকায় এই বাসভবন দীর্ঘদিন যাবৎ পরিত্যক্ত থাকায় বিনষ্ট হচ্ছে। ২য় শ্রেনীর কর্মকর্তাদের বাসভবন গুলোর অধিকাংশই খালি অবস্থায় পড়ে আছে।

এলাকার স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, রেলওয়ে সরকারী আবাসিক কলোনীর বেশ কয়েকটি বাসায় মাদক বিক্রির নিরাপদ আস্তনায় পরিনত হয়েছে। রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্ন কয়েকটি বাসায় নিয়মিত অনৈতিক কার্যকলাপের পাশাপাশি জুয়ার আসরও বসছে। এসব রেলওয়ে সরকারী সম্পদ দেখভাল করার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দেখে না দেখার ভান করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ে বিভাগের এক শ্রমিক জানান, কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সরকারি বাসাগুলো বহিরাগতদের দখলে রয়েছে। এসব বাসা গুলোর ভাড়ার টাকাও কৌশলে যাচ্ছে দূর্ণীতিবাজ ওই কর্মকর্তাদের পকেটে। অথচ এসব বাসার ব্যবহারে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রতিমাসে পরিশোধ করতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
ছাতক রেলওয়ে (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিব উল্লাহ খান বলেন, রেলওয়ে সরকারী কোয়ার্টার অবৈধ দখলের বিষয়ে ইতিমধ্যেই আমাদের সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিটি দিয়ে জানানো হয়েছে। আশা করি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলওয়ে চট্রগ্রাম (পূর্ব) অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সুবক্তগীন এ বিষয়ে বলেন, রেল বিভাগের সরকারী কোয়ার্টার অবৈধ দখলে থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সবুজ সিলেট/ এহিয়া

  •