মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ১৯ জানুয়ারি

2

সবুজ সিলেট ডেস্ক :: রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ১৯ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর লালমাটিয়ায় সুরের ধারা আয়োজিত পৌষ উৎসবের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। এক বছর পর চীনের আয়োজনে এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় বৈঠকটি হবে। চাইনিজ প্রতিনিধি থাকবে, মিয়ানমারের প্রতিনিধি থাকবে এবং আমাদের প্রতিনিধি থাকবে। সচিব লেভেলের, ওদের (মিয়ানমার) ডেপুটি মিনিস্টার লেভেল। আশা করছি, এটা খুবই ফলপ্রসূ হবে।

সর্বশেষ ২০২০ সালের জানুয়ারিতে এমন ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছিল জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই মিটিংয়ে কিছু প্রগ্রেস হয়েছিল। বুকলেট তৈরি করবে রোহিঙ্গা ভাষায়, মিয়ানমারের ভাষায়; তারা কিছু আগ্রহ দেখিয়েছিল। তারপর কোভিডের অজুহাতে, নির্বাচনের অজুহাতে মিটিংটা হয়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, গত ৯ বা ১০ তারিখে (বৈঠকটি) হওয়ার কথা ছিল। তারা (মিয়ানমার) ডেট দেয়, চাইনিজরা ওটা আয়োজন করে, আমরা রাজি হই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা পিছিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, পেছানোর একটা বড় কারণ চাইনিজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই মুহূর্তে মিয়ানমার সফরে আছেন। সে কারণে তারা বলেছিল, ওনার সঙ্গে আলোচনার পরে এটা হবে, ১৯ তারিখে হবে। আশা করি, ফলপ্রসূ কিছু ডেভেলপমেন্ট হবে।

মোট সাড়ে আট লাখ রোহিঙ্গার তালিকা দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মিয়ানমার কম সংখ্যককে ভেরিফাই করেছে। ওরা এমনিতে খুব ধীরগতির। মাত্র ৪২ হাজার ফাইনালি তারা ভেরিফাই করেছে, সাড়ে আট লাখের মধ্যে।

শনাক্ত করার ক্ষেত্রেও মিয়ানমার ‘গণ্ডগোল’ তৈরি করেছে অভিযোগ করে মন্ত্রী বলেন, আরেকটি অসুবিধা তাদের নিয়ে। তারা তালিকা করে নিয়ে যাওয়ার জন্য একজনের বাপ ও মেয়েকে এক জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে, কিন্তু ওই লোকের স্ত্রীকে অন্য জায়গায় নেওয়ার কথা বলে। তাহলে এ লোকগুলো যাবে কেন? ওগুলোতে গণ্ডগোল করে।

২০১৭ সালের আগে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল, তাদেরও বায়োমেট্রিক নিবন্ধন শুরু করার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগে যারা আসছিল, ওদেরতো বায়োমেট্রিক করা হয়নি। আমরা সেগুলো তৈরি করতে শুরু করেছি। ডাটাবেজ না থাকলে পাসপোর্ট-আইডি বিভিন্নভাবে করে ফেলে, হয়ত আমরা জানি না।