সৌম্যর প্রতি বাড়তি মনোযোগ ডমিঙ্গোর

2

স্পোর্টস ডেস্ক :: সৌম্য সরকার নেটে গেলে কোচ রাসেল ডমিঙ্গো চোখে চোখে রাখেন। বল ডিফেন্স করে ব্যাটসম্যান তাকান কোচের দিকে, কোচ খালি হাতে শ্যাডো করে শিষ্যকে দেখিয়ে দেন ডিফেন্স করার কর্যকর পদ্ধতি। এই দেখানো এবং শেখার প্রক্রিয়া চার দিন ধরে চলেছে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের আউটার নেটে। ডিফেন্স করার ক্ষেত্রে সৌম্যকে ‘ফুট ওয়ার্ক’ এবং ব্যাটের পজিশন বারবার দেখাচ্ছিলেন কোচ। সেশন শেষ হলে আলাদা করে টুকটাক বর্ণনাও দিতে দেখা গেছে টাইগারপ্রধান কোচকে। এই শেখানোর প্রক্রিয়ায় ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুকও সাহায্য করছেন সৌম্যকে। কোচ এবং খেলোয়াড় ধৈর্য্য নিয়েই কাজটি করছেন। মূলত সৌম্যর মাথায় কার্যকর ডিফেন্স টেকনিকটা গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা করছেন কোচ। মস্তিষ্ক একবার টেকনিক ধারণ করে নিলে অ্যান্টিভাইরাসের মতো কাজ করতে পারে। অভ্যস্ত টেকনিক থেকে নিজেকে বের করে আনতে পারবেন সৌম্য নিজেও।

ব্যাটিংয়ের সময় সৌম্যর পা কম চলে। জায়গায় দাঁড়িয়ে ব্যাট করতে স্বচ্ছন্দ তিনি। কাট বা পুল করার ক্ষেত্রে সেটা তেমন সমস্যা নয়। তবে ব্যাটিং বেসিক ডিফেন্সের ক্ষেত্রে ভুল করার পাথেয় মনে করা হয়। হাঁটু সোজা রেখে পায়ের ভেতরে বল ডিফেন্স করতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে বলে মনে করেন ব্যাটিং বিশেষজ্ঞরা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সৌম্যকে এই সমস্যায় ভুগতেও হয়েছে। জাতীয় দলের প্রতিভাবান এ ব্যাটসম্যানকে আরও শানিত করে তুলতেই টাইগারপ্রধান কোচের এ চেষ্টা। তাই হাঁটু আংশিক ভাঁজ করে পায়ের সামনে ব্যাট রেখে ডিফেন্স করা। কখনও খালি হাতে, কখনও ব্যাট নিয়ে শ্যাডো করে কৌশলটা দেখিয়ে দিচ্ছেন ডমিঙ্গো। গতকাল ব্যাটিং সেশন শেষে সৌম্যকে নিয়ে আলাদা বসেছিলেন কোচ। লম্বা সময় বোঝানোর পর শ্যাডোতেই শেষ হয় দু’জনের কথোপকথন।

জাতীয় দলের সাবেক ফিল্ডিং কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের কাছে ব্যাটিংয়ের ভিত্তি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি ডিফেন্সের কথা বলেন, ‘কেউ ব্যাটিং শিখতে চাইলে তাকে ডিফেন্স করা জানতে হবে। ডিফেন্সের কার্যকর প্রক্রিয়া যে যত ভালো জানবে, সে তত ভালো ব্যাটসম্যান হবে। কারণ, ক্রিকেটের ব্যাটিং হলো ডিফেন্সের ওপর।’

সৌম্যকে এই দুর্বলতা কাঠিয়ে উঠতে জাতীয় দলের সাবেক দুই কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ও নিল ম্যাকেঞ্জি নেটে কাজ করেছেন। একই জিনিস বছর বছর শেখানো হলেও পাকাপাকি কৌশলটি মস্তিষ্কে ধরে রাখতে পারছেন না। ২২ গজে ব্যাট করতে নামলে অবচেতন মনে পুরোনো কৌশলে ফিরে যেতে দেখা যায় টপঅর্ডার এ ব্যাটসম্যানকে। যে কারণে জাতীয় দলের নতুন কোচ এলেই ডিফেন্স নিয়ে বারবার একই টেকনিকের কথা বলতে দেখা যায়।

জাতীয় দলে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের কল ছিলেন সৌম্য। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাকে অভিষেক করান টাইগার তৎকালীন প্রধান কোচ। বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যানকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়া এবং ব্যাটিং অর্ডার তিন নম্বরে খেলার সুযোগ করে দেওয়া হাথুরুর সিদ্ধান্ত। কোচের পরিকল্পনায় সফলও ছিলেন বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ-পরবর্তী হোম সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ছিল তার। তামিম ইকবালের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে জায়গা করেও নিয়েছিলেন তিনি।