সিলেটের সাত পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চার, বিএনপির বিদ্রোহীসহ ৩জন বিজয়ী

41


সেলিম হাসান কাওছার
সিলেটে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সিলেট বিভাগের সাতটি পৌরসভায় গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল ৪টায়। এরপর ফলাফল ঘোষণায় সাতটি পৌরসভায় মধ্যে চারটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী, ২টিতে বিএনপি ও একটি বিএনপির বিদ্রোহী প্রাথী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর পৌরসভায় আওয়ামীলীগের নাদের বখত, ছাতক আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত জুয়েল আহমদ, কুলাউড়ায় আওয়ামী লীগের মনোনীত অধ্যক্ষ শিপার উদ্দিন আহমদ, নবীগঞ্জে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী, মাধবপুর পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান মানিক ও জগন্নাথপুর পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আখতারুজ্জামান আখতার।

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ পৌরসভার পৌরসভার মোট ভোটার ৪৬ হাজার ৯৭৯ জন। পুরুষ ২৩ হাজার ২২০ জন ও ২৩ হাজার ৭৫৯ জন হলেন মহিলা ভোটার। ভোট কেন্দ্র ২৩টি। আওয়ামী লীগের মনোনীত নাদের বখত (নৌকা) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২১ হাজার ৬৬৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির মোর্শেদ আলম পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৮৫ ভোট।
জগন্নাথপুর : জগন্নাথপুর পৌরসভার মোট ভোটার ২৮ হাজার ৬০১ জন। পুরুষ ভোটার ১৪ হাজার ৩৬৪ জন ও মহিলা ১৪ হাজার ২৩৭ জন। ইভিএম ভোটকেন্দ্র ১২টি। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র স্বতন্ত্র আখতারুজ্জামান আখতার (চামচ) প্রতীক নিয়ে ৮হাজার ৩শ ৭৮ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান পৌর মেয়র মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া (নৌকা) ৮হাজার ১৮ ভোট পান।
ছাতক : ছাতক পৌরসভার মোট ভোটার ৩০ হাজার ২৭৮ জন। পুরুষ ভোটার ১৫ হাজার ২৭২ জন ও মহিলা ১৫ হাজার ৬ জন। ভোটকেন্দ্র ১৯টি। মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী (নৌকা) প্রতীক নিয়ে ১২ হাজার ৮২৩ ভোট পেয়ে বিজয় লাভ করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশিদা আহমদ ন্যান্সি (ধানের শীষ) নিয়ে পান ৭হাজার ৯০৮ ভোট।
আওয়ামী লীগের চার
(১ম পাতার পর)
কমলগঞ্জ : কমলগঞ্জ পৌরসভার মোট ভোটার ১৩ হাজার ৯০৫ জন। পুরুষ ৬ হাজার ৮৮৭ জন ও মহিলা ভোটার ৭ হাজার ১৮ জন। আওয়ামী লীগ মনোনীত জুয়েল আহমদ (নৌকা) ৫হাজার ২৫৭ ভোট পেয়ে বিজয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী হেলাল মিয়া (জগ) ২হাজার ৮০৬ ভোট পান।
কুলাউড়া : কুলাউড়া পৌরসভার মোট ভোটার ২০ হাজার ৭৫৩ জন। পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ২২৮ জন ও মহিলা ভোটার ১০ হাজার ৫৩১ জন। আওয়ামী লীগের মনোনীত অধ্যক্ষ শিপার উদ্দিন আহমদ (নৌকা) প্রতীক ৪হাজার ৮৩৮ ভোট পেয়ে বিজয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী স্বতন্ত্র প্রার্থী শাজান মিয়া (জগ) প্রতীকে ৪হাজার ৬৮৫ ভোট পান ।
নবীগঞ্জ : নবীগঞ্জ পৌরসভার মোট ভোটার ১৮ হাজার ৬৯৯ জন। পুরুষ ভোটার ৯ হাজার ১৩৯ জন ও ৯ হাজার ৫৬০ জন হলেন মহিলা ভোটার। বিএনপি মনোনীত বর্তমান মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী (ধানের শীষ) প্রতীকে ৫ হাজার ৭৪৫ ভোট পেয়ে বিজয় লাভ করেছেন। তাঁর নিকততম প্রতিদ্বন্ধী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী ৫ হাজার ৪৮৫ ভোট পান। ২৬০ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হন ছাবির আহমদ চৌধুরী।
মাধবপুর : মাধবপুর পৌরসভার মোট ভোটার ১৫ হাজার ৯৮৭ জন। পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ১০৭ জন ও ৭ হাজার ৮৮০ জন হলেন মহিলা ভোটার। বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান মানিক (ধানের শীষ) প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ৫ হাজার ৩১টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পংকজ সাহা নারিকেল গাছ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ১৮৫টি।
ভোটগ্রহণ শুরুর প্রথম দিকে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভোটার। সারাদিন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রদান করেন ভোটাররা। তীব্র শীত উপেক্ষা করে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেন ভোটাররা। সিলেটে বিভাগের সাতটি পৌরসভায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে শেষ হয় ভোট যুদ্ধ। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে শীতকে অপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে যান নারী ও পুরুষ ভোটাররা। এ পৌরসভাগুলো হলো- সুনামগঞ্জ সদর পৌরসভা, ছাতক, জগন্নাথপুর, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, নবীগঞ্জ ও মাধবপুর পৌরসভা।
এদিকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌর নির্বাচনে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রুমেল আহমদের নেতৃত্বে ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৯নং ওয়ার্ডে লস্করপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (চানপুর, জগন্নাথপুর, মমরেজপুর ও লস্করপুর আংশিক) কেন্দ্রে ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রুমেল আহমদসহ কয়েকজন ব্যালট পেপার নিয়ে অবৈধ ভোট দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় ভোটাররা তাদের প্রতিহত করে। আল্লাহর কাছে বিচার দিলেন কুলাউড়া পৌরসভার বিএনপির মেয়রপ্রার্থীর স্ত্রী। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষের প্রার্থী কামাল উদ্দিন জুনেদ আহতও হয়েছেন। দুপুর আড়াইটার দিকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (উছলাপাড়া আংশিক, দক্ষিণবাজার ও দক্ষিণ রেলওয়ে কলোনি) কেন্দ্রে তিনি হামলার শিকার হন।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ভোট চলাকালে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করায় চার ব্যক্তিকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দুপুরে শিবপাশা কেন্দ্রের সামনে এই অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামছুদ্দিন মো. রেজা। সুনামগঞ্জে নাতির কাঁধে ভর করে ভোট দিতে এলেন দাদি। ‘জীবনে আর নির্বাচন পাবো কি না জানিনা, তাই নাতিকে কাঁদতে কাঁদতে বললাম আমিও পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চাই কারণ এটাই হতে পারে জীবনের শেষ নির্বাচন’- কথাগুলো ভোট দিতে এসে বলছিলেন ১২০ বছরের বৃদ্ধা করিমুন নেছা। তিনি সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আরপিননগরের বাসিন্দা। নাতি বাপ্পি আহমদের কাঁধে ভর করে পৌর শহরের কে.বি মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দেন তিনি।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌরসভায় নির্বাচনের আগের রাতেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থীদের উপস্থিতিতে সহিংসতা হয়েছে। এতে ছয়জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে গয়াহরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে এ ঘটনা ঘটে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে নবীগঞ্জ পৌর এলাকার সর্বত্র উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

সবুজ সিলেট/ হাসান

  •