জকিগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ পৌর নির্বাচনে বিদ্রোহীদের নিয়ে বিপাকে আ.লীগ-বিএনপি

12


সেলিম হাসান কাওছার
সিলেটে পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে পড়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। বড় দু’দলের মধ্যে একাধিক প্রতিদ্ব›দ্বী মেয়র প্রার্থী থাকায় বিব্রত হচ্ছেন ভোটাররা। যদিও ইতোমধ্যে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে দুটি দল। কিন্তু ভোটের হিসেবে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। যার প্রমাণ প্রথম দু’দফা পৌর নির্বাচন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

তৃতীয় দফায় সিলেটের জকিগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই দুই পৌরসভায় ও বড় দুই দলে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় গোলাপগঞ্জ ও জকিগঞ্জের চার মেয়র প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গোলাপগঞ্জ ও জকিগঞ্জ আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার সুপারিশের পরিপ্র্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
দলের সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় গোলাপগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাবেলকে দ্বিতীয় বার ও একই কারণে গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ পাপলুকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়া উপনির্বাচনেও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে অংশগ্রহণ করেন রাবেল। তিনি দীর্ঘদিন থেকে স্বপরিবারে যুক্তরাজ্য বসবাস করে আসছিলেন।
২০১৮ সালের ৩১ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সিরাজুল জব্বার চৌধুরী মৃত্যুবরণ করার পর মেয়র পদটি শূন্য হয়। খবর পেয়ে যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আমিনুল ইসলাম রাবেল দেশে আসেন এবং নৌকার প্রার্থী জাকারিয়া আহমদ পাপলুর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ওই নির্বাচনে ১৯২ ভোটের ব্যবধানে নৌকার বিজয় হাতছাড়া হয়। সে সময় নৌকার প্রার্থী পাপলু পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ড ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে জাল ভোট দিয়ে নৌকার বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সিলেট নির্বাচন কমিশনের জেলা ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলেন। নৌকার বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় সে সময় রাবেলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু মেয়র পদের চেয়ার পাওয়ার পর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে যান।
অপরদিকে জকিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ফারুক আহমদকে দ্বিতীয় বার ও জকিগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহŸায়ক আব্দুল আহাদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আব্দুল আহাদের বিষয়ে সিলেট জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আওয়ামী লীগের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহন করেন ফারুক আহমদ। সে সময় তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
ওই নির্বাচনে ৩য় স্থান অর্জন করেন। সে সময় নৌকার বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সর্বশেষ জকিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকের পদ লাভ করেন।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন, দলের সিদ্ধান্ত না মেনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সুপারিশের ভিত্তিতে জকিগঞ্জে ২জন ও গোলাপগঞ্জে ২জন মেয়র প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গোলাপগঞ্জে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও জকিগঞ্জ পৌরসভায় উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন হীরা নির্বাচন করছেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও স্থানীয়ভাবে বিএনপির বিদ্রোহীর প্রার্থী হিসাবে পরিচিত। তার কারণে জকিগঞ্জে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক মেয়র ইকবাল আহমদ তাপাদার দুশ্চিন্তায় আছেন।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির আহবায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার জানান, জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন হীরাকে বহিষ্কার করার জন্য কেন্দ্রে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করি, দু’তিন দিনের মধ্যে বহিষ্কারের আদেশ চলে আসবে।

সবুজ সিলেট/ হাসান

  •