জকিগঞ্জে ৫৫টি পরিবারের নিকট ঘর হস্থান্তর

9

জকিগঞ্জ প্রতিনিধি:
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সিলেটের সীমান্ত উপজেলা জকিগঞ্জের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য জকিগঞ্জে ‘স্বপ্ননীড়’ এর ১৩০টি ঘর বরাদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫টি ঘর নির্মিত  ২৩ জানুয়ারি উপকারভোগীর নিকট হস্থান্তর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও করফারেন্সের মাধ্যমে উপকারভোগীদের নিকট ঘর হস্তান্তর কাজের উদ্বোধন করেন । উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের হাতে জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত কবুলিয়ত ও নামজারি সম্বলিত জমির মালিকানা সনদ তুলে দেন। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ঘর হস্থান্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমী আক্তার। উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুম আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এএউচএম মাহফুজুর রহমানসহ পজনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা,সাংবাদিকসহ উপকারভোগীগণ উপস্থিত ছিলেন। জকিগঞ্জে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় ৫৫টি ঘর নির্মিত হয়েছে। বাকী ৭৫টি ঘরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তুত করা হবে বলে আশাবাদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমী আক্তার।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) আতাউর রহমান জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খাস জমিতে এসব ঘর তৈরী করা হয়েছে। বীরশ্রীর মইয়াখালীতে ১৭টি, রাধার বাজারে ৬টি, সুলতানপুরের কেরাইয়া গ্রামে ১৪টি,বারহালের শাহবাগে ৭টি, বারঠাকুরিতে ৭টি, কাজলসারে ৪টি ঘরনির্মান করা হয়েছে। প্রকৃতির নিবিড় ছোঁয়া লাগানো পরিবেশে নির্মিত হয়েছে ঘরগুলি। তকতকে ঝকঝকে ঘর পেয়ে দারুণ খুশি উপকারভোগীরা। তাদের মনে এখন খুশির ঝিলিক, অন্য রকম প্রাপ্তির উজ্জ্বেল্য। দেহ মনে ফুরফুরে ভাব। বিষয়টি স্বপ্নের মতো তবুও স্বপ্ন নয়। জকিগঞ্জে ‘স্বপ্ননীড়’
নির্মাণ কাজ তদারকি করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমী আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পল্লব হোম দাস, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আতাউর রহমান। প্রতিটি ঘর আধা পাকা এ ং চাল রঙ্গিন টিনের তৈরী। দুই কক্ষের প্রতিটি ঘরে রয়েছে রান্নাঘর, বাথরুম ও বারান্দা। প্রতিটি ঘর তৈরীতে খরচ হয়েছে ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা।
স্বামী পরিত্যাক্তা সঞ্চিতা রাণী দাস দুই সন্তান নিয়ে কোনাগ্রামে রাস্তার পাশে একটি ঝুপড়ি ঘরে থাকতেন দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে। দুই শতক জায়গার একটি দৃষ্টিনন্দন বাড়ি পেয়ে মহাখুশি। তিনি বলেন, সব সময় হুরুতার লাগি চিন্তা করতাম। এবলা মইরাও শান্তি পাইমু। বীরশ্রীর দক্ষিণবাগের স্বামী পরিত্যাক্তা আসমা বেগম বলেন, অভাবের সাথে সব সময় লড়াই করেছি অন্যের বাড়িতে আশ্রিতা ছিলাম। প্রধানমন্ত্রীরে আল্লায় হায়াত দেউক্কা। এবলা সুখ শান্তিতে থাকতে পারমু।

  •