ভিত্তি প্রস্তরেই আটকে আছে জকিগঞ্জ পৌর ভবনের স্বপ্ন

9


আল মামুন, জকিগঞ্জ প্রতিনিধি::
সিলেটের জকিগঞ্জ বাংলাদেশের জেলাগুলোর মধ্যে জেলা সদর থেকে সবচেয়ে দূরত্বের উপজেলার নাম। জেলা সদর থেকে এ উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৯১ কিলোমিটার। সীমান্তবর্তী এ উপজেলা সদরকে ১৯৯৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর পৌরসভায় উন্নীত করা হয়। প্রথম পৌর নির্বাচন হয় ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ। নয়টি ওয়ার্ডের এ পৌরসভায় লোকসংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার। এর মধ্যে মোট পরিবারের সংখ্যা দুই হাজার ৮৪৫টি। সাত দশমিক ২৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় কাঁচা রাস্তা ১৯ দশমিক ৩৭০ কিলোমিটার, ইটের রাস্তা ৯ দশমিক ১৩০ কিলোমিটার এবং পাকা রাস্তা ২১ দশমিক ৩৭০ কিলোমিটার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি সরকারি কলেজ, তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (দুটি সরকারি), পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি মাদ্রাসা (আলিয়া একটি, কওমি দুটি) রয়েছে। জকিগঞ্জ পৌর শহর প্রতিষ্ঠার দুই দশক পরেও সেই গ্রাম্য কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রত্যাশিত কেনো উন্নয়নও নেই। সরেজমিন ঘুরে পৌর শহরের সমস্যার আদ্যোপান্ত ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছি আমরা।
‘পৌর শহর কোথায়….?’ জকিগঞ্জে প্রথম গেলে যে কাউকে তাজ্জব বনে যেতে হবে, এ কথা বললে! একটা ভাঙাচোরা পিচঢালা রাস্তা, তার নাম ‘মেইন রোড’। যত্রতত্র রিকশা-অটোরিকশা-মিনিবাস দাঁড় করানো, রাস্তা দিয়ে গরু-ছাগল নির্বঘেœ চলাচল করছে, ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ আর ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ কোদানপাট। আশপাশে ডানে-বায়ে, কিছু দালানকোঠা, টিনশেডের দোকান আর কিছু গলিপথ। আর এটাই হচ্ছে জকিগঞ্জ পৌরসভা।
২০০১সালের ৩১ মে তৎকালীর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ জকিগঞ্জ পৌরভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পৌর এলাকার মাইজকান্দি এলাকায় এটি স্থাপনের ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও নির্দিষ্ট স্থানে এখন পর্যন্ত পৌরভবন নির্মানের কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, পৌরভবনের এ ভিত্তিপ্রস্তর ‘ভিত্তিহীন’।
পৌর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জকিগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সময় একজন পৌর প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। উপজেলা কমপ্লেক্সের ভেতরের একটি ছোট্ট আধাপাকা টিনশেডের ভাড়া করে পৌরসভা আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। ভাড়াকৃত এ ভবনটি এর আগে অফিসার্স ক্লাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পৌরসভা গঠনের পর চারজন মেয়র দায়িত্ব পালন করলেও এখন পর্যন্ত মাইজকান্দির ওই নির্দিষ্ট স্থানে পৌর ভবন নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেননি।
একাধিক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর প্রশাসনের কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, পৌরভবন নির্মাণ না হওয়ায় সমস্যা ধীরে ধীরে মারাত্মক আকার ধারণ করছে। দিন দিন পৌরসভার কাজ ও পরিসর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে একটি ছোট ঘরে কাজ করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। কক্ষ সংকটের পাশাপাশি জরুরি কাগজপত্র ও আসবাব পর্যন্ত রাখা যাচ্ছে না। এছাড়া মেয়র, কাউন্সিলর ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসার জন্য সুব্যবস্থা নেই বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করেছেন।
পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর দেখতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো স্থানটি জুড়ে মৌসুমে ধানের চারা লাগানো হয়। খেতের একপাশে আইলের মাঝে ভিত্তিপ্রস্তরটি পড়ে আছে। নির্বাচন সামনে এলে সকল প্রার্থীই ভবন নির্মাণের বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান। ভোট কমে যাবার আশঙ্কায়। পৌর এলাকার পূর্বাঞ্চলে পৌর ভবন হলে পরবর্তীতে পশ্চিমাঞ্চলের ভোট পাওয়া যাবে না এই ভয়ে বিষয়টি নিয়ে নির্বাচনের আগে বা পরে তেমন কেউ মাথা ঘামান না। প্রার্থীরা নির্বাচনী ইশতিহারেও বিষয়টি উল্লেখ করেননি। জকিগঞ্জ ছোট এলাকা পৌরবাসীর স্বপ্ন একটি নিজস্ব পৌর ভবন। সেটি পূর্ব, মধ্য কিংবা পশ্চিম যে এলাকাতেই হোক। কিন্ত এমন মেয়র কী জকিগঞ্জ পৌরবাসী পাবে যিনি সাহস করে এগিয়ে আসবেন জকিগঞ্জপৌরবাসীর এ স্বপ্ন পূরণে ? এমন প্রশ্ন শোনা যায় স্থানীয়দের মুখে।
পৌরভবন না থাকায় এত সমস্যা, অথচ পৌরভবন নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেই-এ প্রশ্নের জবাবে পৌরসভা সূত্র জানায় , ‘মাইজকান্দি এলাকার এক ব্যক্তি পৌরভবন নির্মানের জন্য ২৮ শতক জায়গা দিয়েছিলেন। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নিয়ামানুযায়ী ৫০ শতক জায়গার প্রয়োজন।’

  •