কারাগারে নারীসঙ্গ : জেলারকে লাখ টাকা ঘুষ দেন তুষার

11

সবুজ সিলেট ডেস্ক::
নারীসঙ্গ পেতে হলমার্কের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) তুষার আহমদ কাশিমপুর কারাগার-১-এর চার কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন। কারা মহাপরিদর্শকের কাছে দেয়া এক লিখিত ব্যাখ্যায় এ তথ্য উল্লেখ করেছেন সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায়।

গত ৬ জানুয়ারি দুপুরে কাশিমপুর কারাগারের ভেতরে হলমার্কের জিএম তুষার আহমেদের সঙ্গে একজন নারীর একান্ত সাক্ষাতের চিত্র কারাগারের সিসিটিভিতে ধরা পড়ে। এ সময় সেখানে ডেপুটি জেলার মোহাম্মদ সাকলাইনসহ বাকি দুজনকে দেখা যায়।

এ ঘটনায় কারা অধিদপ্তর দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় শুরুতে তিন জনকে প্রত্যাহার করা হয়। এরা হলেন ডেপুটি জেলার মোহাম্মদ সাকলাইন, সার্জেন্ট আব্দুল বারী ও সহকারী প্রধান কারারক্ষী খলিলুর রহমান। পরে রোববার আরও দুজনকে প্রত্যাহার করা হয়। তারা হলেন জেলার নূর মোহাম্মদ মৃধা ও সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায়।

গত ১৪ জানুয়ারি অভিযোগ ওঠার পর রত্না রায় তার লিখিত ব্যাখায় বলেন, তুষার কারাগারের জেলারকে এক লাখ টাকা, ডেপুটি জেলারকে ২৫ হাজার টাকা এবং সার্জেন্ট ইনস্ট্রাক্টর, গেট সহকারী প্রধান কারারক্ষীকে ৫ হাজার টাকা করে ঘুষ দিয়েছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারা অধিদপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রত্না রায়ের লিখিত প্রতিবেদন সম্পর্কে অবহিত করেন।

সেই কর্মকর্তা জানান, রত্না রায় তার প্রতিবেদনে বলেন, জেলার নূর মোহাম্মদ মৃধার অনুমতি নিয়ে ঘটানো পুরো ঘটনার সঙ্গে কাশিমপুর কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. সাকলায়েন জড়িত। ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে তার অগোচরে ও গোপনে হয়েছে। কারাগারের গেটে জেলারই তাদের কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেন এবং ডেপুটি জেলার তাদের ‘রিসিভ’ করেন, যা সিসিটিভি ফুটেজে দৃশ্যমান। আর গোপনীয়তা রক্ষার জন্য পুরো ঘটনায় ওয়াকিটকির বদলে মোবাইল ফোনে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন জেলার ও ডেপুটি জেলার। প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করেন রত্না রায়।

লিখিত ওই প্রতিবেদনে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ও ঘটনার সঙ্গে নিজে কোনোভাবে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন রত্না রায়। এই প্রতিবেদন তৈরি করতে সেদিন দায়িত্বে থাকা একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তা নেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন রত্না।

টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি রত্না রায়।

তবে যোগাযোগ করা হলে জেলার নূর মোহাম্মদ মৃধা তুষারের কাছ থেকে এক লাখ টাকা গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে নতুন। টাকা নেবার প্রশ্নই ওঠে না। জেল সুপার পারমিশন দিয়েছেন, সে অনুযায়ী বন্দির সাথে নারীর দেখা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। ওই নারী যখন কারাগারের ভিতরে আসেন, তখন তো জেল সুপার তার অফিসেই ছিলেন। তাহলে ব্যবস্থা কেন নিলেন না? বন্দির পরিবারের সাথে জেল সুপারের খুব ভালো সম্পর্ক, এটা কারাগারের সবাই জানে।

  •