ছয় মাসের জন্য খুললো সিলেটের বন্ধ থাকা দুটি পাথর কোয়ারি

55

সবুজ সিলেট ডেস্ক :: ছয় মাসের জন্য খুললো সিলেটের বন্ধ থাকা আরও দুটি পাথর কোয়ারি। সিলেটের বিছনাকান্দি ও জাফলংয়ের পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) বর্হিভূত এলাকা থেকে পাথর উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়।

রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৫ জানুয়ারি) বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সিলেটের দুটি কোয়ারি খুলে দেয়ার আদেশ দেন।

আদালতে রিটকারিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হাবিব-উন-নবী। ছয় মাসের জন্য দুই পাথর কোয়ারি খুলে দিতে আদালত আদেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি। কোনো যন্ত্রের ব্যবহার ছাড়া এসব কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনের নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

এর আগে ১৭ জানুয়ারি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ কোয়ারি থেকেও পাথর উত্তোলনের রায় দেন বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিলেটের জাফলং, ভোলাগঞ্জ, শাহ আরেফিন টিলা, বিছানাকান্দি ও লোভাছড়ার পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এর আগে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) দায়ের করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলোতে সব ধরনের যন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন উচ্চ আদালত।

তবে এ নিষেধাজ্ঞার পর কোয়ারি থেকে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আন্দোলন করে আসছেন পাথর ব্যবসায়ীরা। পরে আন্দোলনে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন পরিবহন ব্যবসায়ীরাও।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, ২০১২ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় জাফলংকে ইসিএ ঘোষণার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জাফলংকে ইসিএ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। ২০১৬ সালের ১১ জানুয়ারি জাফলংকে ‘ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য’ ঘোষণা করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে জাফলংয়ের ২২ দশমিক ৫৯ একর জায়গাকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়।

এই অবস্থায় চলতি মাসে দুই শুনানিতে ভোলাগঞ্জ, জাফলং ইসিএ বহির্ভূত পিয়াইন এলাকা ও বিছনাকান্দি কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের দেওয়া স্থগিতাদেশের কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট।

সবুজ সিলেট/এমএএম

  •