২০২০ সালে তামাবিল স্থল বন্দরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পুরণ হয়নি

13

সবুজ সিলেট ডেস্ক : করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় ২০২০ সালে সিলেটের তামাবিল স্থল বন্দরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পুরণ হয়নি। আগের বছরের চাইতেও রাজস্ব আয় কমেছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। কমছে পণ্য আমদানিও।

তবে স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বছরের শেষ প্রান্তিকে পণ্য রফতানি বেড়েছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরে (২০২১ সাল) রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে মূলত কয়লা ও পাথর আমদানি হয়। তবে ভারতের উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে কয়লা আমদানি। অপরদিকে, সিলেটের কোয়ারিগুলো থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় পাথর আমদানি বেড়েছে। তবে এই বন্দর দিয়ে তেমন কোনো পণ্য রফতানি হয় না।

তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শুল্ক স্টেশন থেকে তামাবিলকে স্থলবন্দরে উন্নীত করা হলেও এখানে এখনো নেই বন্দরের সুবিধা। ফলে এই বন্দর দিয়ে পন্য আমদানি-রফতানিতে ব্যবসায়ীরা আগ্রহী নন।

২০০২ সালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ঘোষণার ১৫ বছর পর ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে সিলেটের প্রথম এই স্থলবন্দরের উদ্বোধন করা হয়।

তামাবিল স্থল বন্দর সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে এই বন্দর দিয়ে ২০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৫৬ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে। এতে রাজস্ব আদায় হয় ১৬ কোটি ১৭ লক্ষ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২০ সালে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২০ কোটি টাকা। তবে আদায় হয়েছে ১৪ কোটি ৮৬ লাখ ২৪ হাজার ৭৪৮ টাকা।

তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গতবছরের ৩০ মার্চ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সাড়ে ৩ মাস পণ্য আমদানি রফতানি বন্ধ ছিলো।

তামাবিল স্থল বন্দরের সহকারি পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, তামাবিল স্থল বন্দর দিয়ে এখন মূলত ভারত থেকে পাথর আমদানি হচ্ছে। এছাড়া ভ’টান থেকে কিছু কমলা আমদানি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, করোনার কারণে গত বছর প্রায় সাড়ে তিনমাস বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ছিলো। একারণে বছর শেষে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তবে বছরের শেষ প্রান্তিকে পাথর আমদানি আগের বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এই অবস্থা চলতি বছরেও অব্যাহত থাকলে এবার রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

তামাবিল স্থল বন্দরের একাধিক আমদানিকারক জানান, শুল্ক স্টেশন থেকে তামাবিলকে স্থলবন্দরে উন্নীত করা হলেও কোনো বাড়তি সেবা পাচ্ছেন না আমদানিকারকরা। স্থলবন্দরের ডাম্পিং ইয়ার্ডও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে পন্য আমদানির পর মজুদের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ডাম্পিং ইয়ার্ডের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।

 

সবুজ সিলেট/এমএএম

  •