ভারতের সঙ্গে চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ রহিমপুর খাল খননে বিএসএফের বাধা

7

সবুজ সিলেট ডেস্ক
কুশিয়ারা নদী থেকে ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলনের জন্য ভারতের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করতে চায় বাংলাদেশ। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানি রহিমপুর খাল দিয়ে কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য ভারতের যে আপত্তি সেটিও নিষ্পত্তি করতে চায়। আগামী মাসে দুই দেশের পানি সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গছে পানি সম্পদ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ৬ ডিসেম্বর যৌথ নদী কমিশনের ওয়ার্কিং গ্র“পের সভায় কুশিয়ারা নদী থেকে পানি উত্তোলন এবং রহিমপুর খাল ব্যবহারের বিষয়টি তোলা হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা দ্রুত এ বিষয়ে আসাম রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের অবস্থান জানাবে।
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ এর ফলে বাংলাদেশের ৫,০০০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে।’
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ যে পরিমাণ পানি উত্তোলন করতে চাইছে সেটি শুকনো মৌসুমে কুশিয়ারা নদীর মোট প্রবাহের ১০ শতাংশেরও কম। ফলে এই পানি উত্তোলনে নদীর কোনও ক্ষতি হবে না। ভারত ইতোমধ্যে ১০০ কিউসেকের বেশি পানি কুশিয়ারা থেকে উত্তোলন করছে বলে তিনি জানান।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ মুহূর্তে কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে কোনও আলোচনা হচ্ছে না। যতক্ষণ পর্যন্ত না আলোচনা হয়ে একটি ঐক্যমতে পৌঁছানো যাচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত একটি অন্তবর্তীকালীন ব্যবস্থার জন্য সমঝোতা স্মারকের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ।’
রহিমপুর খাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই খালটি প্রায় ৫০ মিটার বর্ধিত খনন করে কুশিয়ারার পানি দিয়ে ৫,০০০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনার পরিকল্পনা আছে সরকারের। কিন্তু এটি করতে ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বাধা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএসএফ জানিয়েছে রহিমপুর খালটি সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে এবং এক্ষেত্রে উপর মহলের অনুমতি ছাড়া এখানে খাল খনন করা যাবে না।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যে পরিমাণ পানি উত্তোলন করার বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে সেটি নদীর জন্য ক্ষতিকারক নয়। এটি নিয়ে তেমন মতবিরোধ নেই। কিন্তু রহিমপুর খালটির ঝামেলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে বাংলাদেশের জন্য ভালো হবে। আশা করছি ২৬ মার্চ বাংলাদেশ ও ভারতের শীর্ষ সম্মেলনের আগে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।’

  •