করোনা আক্রান্ত যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের ফের নমুনা সংগ্রহ, শাবিতে প্রেরণ

8

স্টাফ রিপোর্টার
করোনা শনাক্ত হওয়া যুক্তরাজ্য ফেরত ব্যক্তিদের নমুনা ফের সংগ্রহ করা হয়েছে পুনরায় পরীক্ষার করা জন্য। আগেরবার তাদের নমুনা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা করা হলেও এবার তাদের নমুনা সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) স্থাপিত করোনা শনাক্তকরণ ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল।
তিনি বলেন, ২১ জানুয়ারি লন্ডন থেকে বিমানের একটি ফ্লাইটে সিলেটে আসা ২৯ যাত্রীর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন শেষে নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। এরপর তাদেরকে কড়া পাহারায় খাদিমপাড়া ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে আক্রান্তরা সবাই সুস্থ আছেন, নমুনা পুনরায় পরীক্ষার জন্য শাবিপ্রবির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া এটি করোনার নতুন স্ট্রেইন কিনা তা নিশ্চিতের প্রক্রিয়া চলছে, এদিকে অধিকতর পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য আইসিসিডিআর এর ৭ সদস্যের দল এখন সিলেটে বলেও জানান সিভিল সার্জন।
এদিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. ময়নুল হক বলেন, যুক্তরাজ্য ফেরত ২৯ জনের শরীরে শনাক্ত হওয়া ভাইরাস করোনার নতুন ধরন হওয়ার আশঙ্কা আছে। যেহেতু তারা যুক্তরাজ্য থেকে এসেছেন, এ জন্য বাংলাদেশ সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ সিকোয়েন্সিংয়ের প্রয়োজন।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যফেরত ব্যক্তিদের করোনা পরীক্ষা এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করা হয় না। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে হয়। করোনা শনাক্ত হওয়া ২৯ জনের নমুনা আবার ওসমানী মেডিকেলের পিসিআর ল্যাবে করার কথা রয়েছে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, যুক্তরাজ্য থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেই বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনের কথা বলা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরনের সংক্রমণ থাকায় বাড়তি সতর্কতা হিসেবে এটি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু যুক্তরাজ্যফেরত ব্যক্তিদের করোনা ধরা পড়েছে, আমাদের ধরে নিতে হবে, সেগুলো করোনার নতুন ধরন। তবে এর জন্য আরও বিস্তারিত যাচাই করা হচ্ছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কারও অবস্থা জটিল না। তাদের সাধারণভাবে আইসোলেশন করে রাখা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, যুক্তরাজ্যে মহামারি করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেইন শনাক্ত হওয়ার পর থেকে বিশ্বের সঙ্গে দেশটির যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। সেখানে করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেইন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় এ সতর্কতা নেয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে লন্ডনের আকাশপথে যোগাযোগ এখনও রয়েছে। গতকাল সোমবার বিলেতের ফ্লাইট এসেছে সিলেটে। এতে সিলেটের ১৪৩ যাত্রী এসেছেন। এ নিয়ে ৪ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত গত ২০ দিনে সিলেটে আসা যুক্তরাজ্য প্রবাসীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫৪৪ জনে।
যাদের মধ্যে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী নিজ খরচে কোয়ারেন্টিন পালন শেষে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষার নেগেটিভ সনদ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৭২ জন প্রবাসী। আর বর্তমানে সরকার নির্ধারিত সিলেটের বিভিন্ন হোটেলে কোয়ারেন্টিনরত অবস্থায় রয়েছে আরও ১৪৩ জন যুক্তরাজ্য প্রবাসী।
এদিকে গত ২১ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নং বিজি-২০২’তে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে এসে নামা সিলেটের ১৫৭ প্রবাসী প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন শেষ হয় গত রোববার। তবে সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিলেত ফেরতদের কোয়ারেন্টিন পালন শেষে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়ে নেগেটিভ সনদ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। সেখানে লন্ডন ফেরত ২৮ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।
এর আগে আগে বিলেত ফেরতদের মধ্যে আরও এক যাত্রীর শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। এ নিয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ২৯ জনের করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। তাদেরকে খাদিমপাড়া ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
এর আগে করোনা আক্রান্ত এসব যাত্রীদের ১৫ জন হোটেল নূরজাহানে, ৫ জন হোটেল ব্রিটানিয়ায়, ৪ জন হোটেল হলিগেইটে, ৩ জন হোটেল লা রোজে এবং ১ জন হোটেল হলি সাইডে অবস্থান করছিলেন।

  •