পর্যটকের খরা মাধবকুন্ডে

29

আশফাক জুনেদ, বড়লেখাঃ প্রাকৃতিক পরিবেশে জীবনের স্পন্দন পেতে পর্যটকদের কাছে অতি প্রিয় স্থান মৌলভীবাজারের বড়লেখার মাধবকুন্ড জলপ্রপাত ও ইকোপার্ক। করোনার কারণে দীর্ঘদিন পর্যটকের জন্য ভ্রমন নিষিদ্ধ থাকার পর গত ১ নভেম্বর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভ্রমনের শর্তে খুলে দেওয়া হয় দেশের সর্ববৃহৎ এই জলপ্রপাত। ভ্রমনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও আগের মতো তেমন একটা পর্যটকের দেখা মিলছে না মাধবকুন্ডে। প্রতিদিন সীমিত কিছু মানুষ মাধবকুন্ড ভ্রমনে আসছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিন মাধবকুন্ডে গিয়ে দেখা যায়, করোনার আগে যেখানে পর্যটকের আনাগোনায় মুখরিত থাকতো মাধবকুন্ডের আশপাশ সেখানে অল্প কিছু সংখ্যক পর্যটক ঘুরাফেরা করছেন। চার পাঁচ জন করে আসছেন আবার কিছু সময় থেকে চলে যাচ্ছেন। এভাবে পর্যটকেরা আসা যাওয়া করছে। আগের মতো মাধবকুন্ডের পানিতে নেমে কাউকে গোসল করতে দেখা যায়নি। প্রকৃতির টানে যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটতো সেখানে গুটিকয়েক পর্যটকের বিচরণ ঘটেছে। আগত পর্যটকের বেশিরভাগই স্থানীয় পর্যটক। অল্প কিছু পর্যটক এসেছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে।

বন বিভাগ সুত্রে জানা যায়, দেশের সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত মাধবকুন্ডে অন্যান্য বছরের এই সময়ে প্রতিদিন বিশ থেকে বাইশ হাজার পর্যটকের আগমন ঘটতো। দুর দুরান্ত থেকে পর্যটকেরা মাধবকুন্ড ভ্রমনে আসতেন। কিন্তু করোনার কারণে পর্যটকের সংখ্যা একেবারে কমে গেছে। এখন গড়ে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়শত পর্যটক মাধবকুন্ড ভ্রমনে আসছেন। কোন কোন দিন মাত্র দুই থেকে আড়াইশ পর্যটকও আসছেন। তবে সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় শুক্র ও শনিবারে কিছুটা বেশি পর্যটকের আগমন ঘটে।

এদিকে আশানুরুপ পর্যটক না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন দীর্ঘদিন পর মাধবকুন্ড খুলে দেওয়া হলেও তেমন একটা পর্যটক আসছেন না। যার ফলে বেঁচা কেনা কম। এভাবে থাকলে ব্যবসায় তালা মেরে বাড়িতে চলে যেতে হবে। ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে মাধবকুন্ড ভ্রমনের অনুরোধ জানিয়েছেন।

কবির আহমদ নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘদিন পর মাধবকুন্ড খুলে দেওয়া হয়েছে। খুলে দেওয়া হলেও তেমন একটা পর্যটক বেড়াতে আসছেন না। যার ফলে বেঁচা কেনা কম। আশানুরুপ ব্যবসা না হওয়ায় আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

মাধবকুন্ড পর্যটন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ভানু লাল রায় বলেন, করোনার কারণে পর্যটকের সংখ্যা তুলনামুলক কম। তবে যারাই আসছে তারা যেনো স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘুরাফেরা করে সে বিষয়টা নিশ্চিতে আমরা কাজ করছি। মাস্ক ছাড়া আমরা কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছি না।

বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস বলেন, ‘ করোনার কারণে প্রতি বছরের ন্যায় এবার মাধবকুন্ডে পর্যটক সংখ্যা কম। আগে প্রতিদিন যেখানে হাজার হাজার পর্যটকে মুখরিত থাকতো মাধবকুন্ড ,এখন সেখানে পর্যটকের সংখ্যা শতকের কোটায় চলে এসেছে। করোনার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকেরা আসছেন না।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলেও জানান তিনি।

  •