টিকা নিলেও মাস্ক পরা-হাত ধোয়া চালিয়ে যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

9

সবুজ সিলেট ডেস্ক::
বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার এবং কিছুক্ষণ পর পর হাত ধোয়া অব্যাহত রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভ্যাকসিন নিলেও সবাইকে এই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

সোমবার সকালে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে সভাপতিত্বকালে সভার প্রারম্ভিক আলোচনায় এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে এবং মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী টিকা কর্মসূচি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নাম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৪০ বছর করার কথা বলেছেন। নিবন্ধনকৃতরা যাতে টিকাদান কেন্দ্রে নিজেদের পরিবার-পরিজন নিয়ে আসতে পারেন সে-রকম ব্যবস্থা চালু করারও নির্দেশ দেন তিনি। খবর বাসসের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মাস্ক পরা ও হাত ধোয়া অব্যাহত রাখতে হবে, মানে টিকা যারা নিয়েছে তাদেরও। এটা মনে করলে হবে না যে, আমি টিকা নিয়েছি, তাই একদম নিরাপদ। সবাইকে সাবধানে থাকতে হবে।’

বৈঠকের বিষয়ে পরে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘টিকা নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, টিকাদান কর্মসূচি আরেকটু রিল্যাক্স করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘৪০ বছর পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। গতকাল (রোববার) ৫৫ বছরের কম হলে কিন্তু টিকা দেওয়া হচ্ছিল না। সে জন্য আজ (সোমবার) বলে দেওয়া হয়েছে ৪০ বছর পর্যন্ত হলে টিকা দেওয়া যাবে। এটা আজ থেকেই কার্যকর হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তরুণ যারা আছেন ধীরে ধীরে তাদের ওপেন করে দিতে হবে। যারা ফ্রন্টলাইন ফাইটার, প্রয়োজন হলে তাদের ফ্যামিলির সদস্যদেরও ধীরে ধীরে রেজিস্ট্রেশন করে টিকা দিয়ে দিতে হবে।’

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘কেউ যদি রেজিস্ট্রেশন করতে ব্যর্থ হন, তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে টিকা দিতে পারবেন, সেই ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে, চেক করা হবে তিনি কেন রেজিস্ট্রেশন করেননি।’

টিকা প্রদানকে আরেকটু সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমার মনে হয় একটু ওপেন করে দিয়ে তাড়াতাড়ি দেওয়া যেতে পারে। কারণ, একবার দিয়ে আবার নেক্সট ডোজের জন্য তৈরি হতে হবে।’

টিকা গ্রহণকারীদের পরিচয়পত্র প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা আইডি কার্ডের মতো থাকতে হবে, কারা করোনা ভ্যাকসিনটা নিল। এটা দেখিতে দ্বিতীয় ডোজটা নিতে হবে এবং সেই আইডেনটিটি কার্ডটা তাদের কাছে থেকে যাবে, তাহলে কেউ বিদেশে গেলে তিনি যে করোনা ভ্যাকসিন নিয়েছেন তার প্রমাণ থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টিকা নেওয়ার বিষয়ে গ্রামাঞ্চলে মানুষের মাঝে এখনও একটু দ্বিধা থাকলেও সেটা চলে যাবে, ইনশাল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনা টিকার সেকেন্ড ডোজের জন্য ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। লন্ডনে সেভাবেই করা হচ্ছে। এজন্য ১৫ দিনের মধ্যে সেকেন্ড ডোজের টিকা যে নিতে হবে তা নয়, অন্তত তিন মাস পর্যন্ত এ কার্যকাররিতা থাকে, সেকেন্ড ডোজ নেওয়া যায়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি দ্রুতই সেকেন্ড ডোজটা দিয়ে দিতে। আমি বলেছি এক মাস বা দুই মাসের মধ্যে সেকেন্ড ডোজ দিয়ে এগুলো শেষ করার। কারণ, ভ্যাকসিনের যেন ডেট পেরিয়ে না যায় সেটাও দেখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন বাহিনী এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য টিকা দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নিয়ে এসে তাদের দ্রুত (টিকা) দিয়ে দিতে হবে এবং এটা একটু বলে দিতে হবে (সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে)। সারাদেশের যত পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছেন তাদের সবাইকে এই টিকা দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা ফ্রন্ট লাইনার তাদের আগে দিতে হবে। এর মধ্যে চিকিৎসক বা চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত যারা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীগুলো এবং যারা এই কোভিড মোকাবেলায় সক্রিয় ছিল তাদের আগে দিচ্ছি।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তার দলের নেতা-কর্মীরা এবং ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের ভলান্টিয়াররা জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে যথেষ্ট সক্রিয় ছিল, যথেষ্ট কাজ করেছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই আক্রান্ত হয়েছে সব থেকে বেশি। কাজেই তারা রেজিস্ট্রেশন করলে টিকা নিতে পারবে।

  •