ব্রিটেনে এখনো বাংলাদেশিদের মৃত্যুহার বেশি

20

সবুজ সিলেট ডেস্ক
নভেল করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভেও ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের মৃত্যুহার কমেনি। এই সময়ে কৃষ্ণাঙ্গদের অবস্থার উন্নতি হলেও সবচেয়ে বেশি মৃত্যুহারের তালিকায় বাংলাদেশিরা থেকে গেছেন।

ব্রিটেনের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস (ওএনএস) এবং জেনারেল প্র্যাকটিশনারদের থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি করেছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির নফিল্ড ডিপার্টমেন্ট অব পপুলেশন হেলথের অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম এবং তার সহকর্মীরা। গবেষকদের বিশ্লেষণ এখনো কোনো পিয়ার-রিভিউড জার্নাল কিংবা মেডিকেল জার্নালে প্রকাশ হয়নি।

এই গবেষণায় ২০ থেকে ১০০ বছর বয়সী ২৯ মিলিয়ন মানুষের ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় এখনো বাংলাদেশি, পাকিস্তানের সংখ্যালঘুরা করোনা প্রতিরোধের সুযোগ-সুবিধা কম পাচ্ছেন।

প্রথম ওয়েভের (জানুয়ারি থেকে আগস্ট, ২০২০) সময় বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে অনেক সমালোচনা হয়। ওই বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্রিটেনে বসবাসরত সব সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। বাংলাদেশিরা অভিযোগ করেন, ব্রিটিশ সরকারের অবহেলার কারণেই তাদের এই পরিণতি।

দ্বিতীয় ওয়েভের (সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর, ২০২০) বিশ্লেষণে দেখা গেছে, করোনা সংক্রান্ত জটিলতায় কৃষ্ণাঙ্গদের মৃত্যুহার বেশ কমেছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রায় একই; পাকিস্তানের আগের থেকে বেশি! দ্বিতীয় ওয়েভে কৃষ্ণাঙ্গদের মৃত্যুহার ১.৪৪ শতাংশ থেকে কমে ০.৩৫ শতাংশে এসেছে।

করোনা আক্রান্ত বাংলাদেশিদের মৃত্যুহার প্রথম তরঙ্গে যেখানে ০.৭ শতাংশ ছিল, দ্বিতীয় তরঙ্গে সেখানে ০.৯ শতাংশ। পাকিস্তানিদের ১.৮৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩.৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

সংখ্যালঘুদের এই অবস্থার জন্য ব্রিটেন সরকার শারীরিক পার্থক্যকে দায়ী করলেও অনেক গবেষক বলছেন, সংখ্যালঘুরা যে পরিবেশে বসবাস করেন, যেসব কাজ করেন তার জন্যই তাদের মধ্যে করোনা আক্রান্তের হার বেশি; মৃত্যুও বেশি।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে মঙ্গলবার বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের প্রবাসীরা সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে বেশি থাকেন। একসঙ্গে অনেকে থাকতে বাধ্য হন। তাই তাদের ঝুঁকি বেশি। এই মানুষদের অধিকাংশ হয় ড্রাইভার, না হয় বিক্রয়প্রতিনিধি।

  •