জামালগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই ১৫ গ্রামের চলাচলের ভরসা

67


মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ প্রতিনিধি :::
সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় হাওরবেষ্টিত বেহেলী ইউনিয়নের অবহেলিত জনপদের মধ্যে আছানপুর, হরিপুর, দুর্গাপুর, মদনাকান্দি, রামজীবনপুর, হরিনাকান্দি, পৈন্ডুপ, মামুদপুর, হিজলা, হাওড়িয়া আলীপুর, বদরপুর, ইনাতনগরসহ প্রায় ১৫টি গ্রামের ২৫ হাজার লোকের বসবাস হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন উন্নয়ন না হওয়ায় রাষ্ট্রের অনেক জরুরী সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে এই ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের মানুষ। বেহেলী ইউনিয়নের ইনাতনগর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বঙ্গারকুড়ি নদীর ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে বাঁশের সাঁকোটিই উপজেলার সাথে এইসব গ্রামের লোকজনের সেতুবন্ধন সৃষ্টি করেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকতার যুগে স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিবাহিত হলেও বঙ্গারকুড়ি নদীতে একটি ব্রিজের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকোই তাদের একমাত্র ভরসা। ১৫টি গ্রামের কৃষক শ্রমিক, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীসহ প্রায় ২৫ হাজার জনগণের বাস।
জানা যায়, জামালগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাচনা বাজার থেকে বর্ষার ৪ মাস এসব গ্রামের মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম নৌকা। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে হাওর এবং নদীর পানি শুকিয়ে গেলে এই পথ দিয়ে উপজেলা সদরে আসতে হয় এই অঞ্চলের মানুষকে। স্থানীয় কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ধানসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য সামগ্রী সহজভাবে বাজারজাত করতে না পারায় ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকটা বাধ্য হয়েই মহাজনদের কাছে চলমান বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে কৃষিপণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও প্রকল্প আসে, প্রকল্প যায়, এই এলাকাবাসী ভাগ্যোন্নয়নের কারও যেন মাথা ব্যথা নেই।
বেহেলী ইউনিয়নের ইনাতনগর গ্রামের যোগেন্দ্র দাস (৬৫) ও বদরপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ (৫৬) জানান, ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বাঁশের সাঁকের দুই পাশে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে (রারিপ ও এসডিআরআইপি) এলজিইডি প্রকল্পের মাধ্যমে সাম্ভারজেবল রাস্তা করা হয়েছে। এ সড়কটি বর্ষায় ডুবে যায়। কিন্তু হেমন্তে আট মাস শুকনা থাকে। সাঁকোর দুই পাশে পাকা রাস্তা থাকলেও ১০০ ফিটের মতো বঙ্গারকুড়ি মড়া নদীতে এসে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মানুষদের পারাপার হতে হয়।
এ ব্যাপারে ইনাতনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. আনফর আলী জানান, এই এলাকার ১৫-১৬টি গ্রামের চলাচলের একমাত্র রাস্তা এটি। অথচ মড়া নদীর উপর একটি কংক্রিট ব্রিজ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে মোটরসাইকেল, অটোরিক্সা, টমটম দিয়ে মানুষকে পারপার হতে হয়। গত বছর এলজিইডির লোকেরা এসে মাপজোখ করে নিলেও পরে আর খবর নেই।
এ ব্যাপারে বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসীম কুমার তালুকদার জানান, মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে প্রতি বছরই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে টিআরের মাধ্যমে বাঁশের চাটাই সাঁকো করে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিদিন শত শত গাড়ি আসা-যাওয়ার কারণে প্রতি সপ্তাহেই সাঁকোটি মেরামত করতে হয়। এই মড়া নদীতে একটি কংক্রিট ব্রিজ হলে ১৫টি গ্রামের ২০-২৫ হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত ব্রিজটি করে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করার জন্য।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ বলেন, এই বাঁশের সাঁকোটি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। এখানে একটি ব্রিজ করা অতীব জরুরী। আগামী মাসিক সমন্বয় সভায় এই ব্রিজের বিষয়ে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠাবো। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  •