ভারতে পালিয়ে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের ফেরত চায় মিয়ানমার

7

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::
সামরিক জান্তার কবল থেকে বাঁচতে প্রতিবেশী ভারতে পালিয়ে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের ফেরত চেয়েছে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ।গতকাল শনিবার উত্তর-পূর্ব ভারতের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ কথা জানিয়েছেন।

এর আগে, ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানামরের নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিসহ ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নেতাদের গ্রেফতার করার পর দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় সামরিক বাহিনী। সেনা শাসনের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই বিক্ষোভ, ধর্মঘটসহ নানান কর্মসূচি হচ্ছে।

বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মধ্যে গত শুক্রবার পর্যন্ত পঞ্চাশ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘ। গ্রেফতার হয়েছেন এক হাজার সাতশর বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে অন্তত ২৯ জন সাংবাদিক রয়েছেন।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি মিয়ানমার পুলিশের প্রায় ৩০ পুলিশ সদস্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে হাজির হয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করেন।

এদের মধ্যে তিনজন গত বুধবার স্থানীয় সময় বিকেলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামের মিয়ানমার সীমান্তবর্তী সেরচিপ জেলা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন।

ওই সময় সেরচিপ জেলার পুলিশ সুপার স্টিফেন লালরিনাওমা বলেছিলেন, তারা বলেছে, সামরিক শাসকদের থেকে পাওয়া নির্দেশ মানতে পারবেন না। তাই তারা পালিয়েছেন।

পরে মিজোরামের চাম্পাই জেলার সীমান্ত দিয়েও মিয়ানমারের অনেক পুলিশ সদস্য ভারতে প্রবেশ করেন।

এ ব্যাপারে চাম্পাইয়ের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মারিয়া সি. টি. জুয়ালি গতকাল শনিবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মিয়ানমারের ফালাম জেলার ডিসি তার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে আট পুলিশকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

জুয়ালি জানান, তিনি এখন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছেন।

মিয়ানমারের পুলিশ আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দিচ্ছে ও জান্তাবিরোধী প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন তথ্য পাওয়া গেলেও পুলিশের দেশ ছেড়ে পালানোর কথা স্বীকার করার প্রথম ঘটনা এটি।

জুয়ালির কাছে যে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে তার একটি কপি রয়টার্সও দেখেছে। তাতে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ বলেছে, তাদের কাছে আট পুলিশ সদস্যের তথ্য আছে যারা সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে গেছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, চিঠিতে চার পুলিশ সদস্যের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একজন নারী কর্মকর্তাও রয়েছেন। এদের সবার বয়স ২২ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে অনুরোধ করা হচ্ছে, দয়া করে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশকারী আট পুলিশ সদস্যকে আটক করে মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করুন।

তবে এ বিষয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রশ্নের জবাব দেয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ঘটনার বিষয়ে ভারতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য নিতে গেলে তারা রয়টার্সকে গত শুক্রবার তাদের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বিবৃতির দেখার কথা বলে দেয়। ওই বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছিল, তারা এ ঘটনা সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখছে।

  •