পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রাপ্তি হয়রানি বন্ধ না হলে পরিচালকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাচ্ছেন জ্বালানী ব্যবসায়ীরা

22


স্টাফ রিপোর্টার ::
পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রাপ্তিতে সিলেটের জ্বালানী ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছে সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর। নানা অজুহাতে আটকে দেওয়া হচ্ছে পরিবেশগত ছাড়পত্র। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে তাদের। এর আগে গত বছর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রদানে জ্বালানী ব্যবসায়ীদের হয়রানি চরমে ওঠলে জ্বালানী ব্যবসায়ীরা পরিবেশ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেন। পরবর্তীতে সিলেট চেম্বারের মধ্যস্ততায় তারা আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেন। ফের হয়রানির মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় যেকোনো সময় নতুন কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সিলেটের জ্বালানী ব্যবসায়ীরা জানান, পেট্রোল পাম্প, সিএজি ফিলিং স্টেশন পরিচালনায় পরিবেশগত ছাড়পত্রের বিধিনিষেধ আছে। তাই জ্বালানী ব্যবসায়ীরা সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করে থাকেন। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু থেকেই অধিদপ্তরে নানা হয়রানি শুরু হয়। কোনো কর্মকর্তাই নির্দ্দিষ্ট করে আবেদনের প্রক্রিয়া কী তা জানান না। এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরে ঘুরে জেনে নিতে হয় আবেদনের প্রক্রিয়া। পরবর্তীতে সকল কাগজপত্র জমা দিলেও নানা অজুহাতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হয়ে থাকে। অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিচারপ্রার্থী হয়েও সুফল মিলে না। পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদানে পরিবেশ অধিদপ্তরের হয়রানি চরমে পৌঁছলে সিলেটের জ্বালানী ব্যবসায়ীরা গত বছরের শেষের দিকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেন।
তারা জানান, করোনা মহামারীর মধ্যে কোন ধরণের নোটিশ ছাড়াই পরিবেশ অধিদপ্তর পেট্রোল পাম্প, সিএনজি ফিলিং স্টেশন, ইটভাটাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ টাকা জরিমানা করছে। অনেক প্রতিষ্ঠান মালিক এখনো জানেন না যে তার প্রতিষ্ঠানের জন্য পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রয়োজন। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বিষয়ক কোনো ধরণের প্রচার প্রচারণাও নেই সিলেট বিভাগীয় অফিসের। তারা বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ অনেক বিভাগীয় শহরে এখনো পর্যন্ত এরকম জরিমানা আরোপের ঘটনা ঘটেনি। সেখানে সিলেটের মত ছোট একটি শহরে ব্যবসায়ীদেরকে এভাবে হয়রানি করা মোটেও সমীচীন নয়। জ্বালানী ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের ডাক দেওয়ার পর সিলেট চেম্বার নেতৃবৃন্দেও মধ্যস্ততায় পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন এক মতবিনিময় সভায় স্বল্প সময়ে ছাড়পত্র প্রদানের আশ্বাস দিলে ব্যবসায়ীরা তখনকার মতো আন্দোলন স্থগিত করেন।
বাংলাদেশ পেটোলিয়াস ডিলার্স, ডিস্টিবিউটার্স এজন্টস এন্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের হয়রানিতে অতিষ্ট সিলেট পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকরা পরিবেশ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে কর্মসূচীতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন গত বছরের নভেম্বর মাসে। ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধের লক্ষ্যে সিলেট চেম্বার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেনের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে পরিবেশের ছাড়পত্র স্বল্প সময়ে প্রদানের আশ্বাস পেলে কর্মসূচীর পরিকল্পনা স্থগিত করেন পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকরা। বৈঠকে পর কয়েকদিন স্বল্প সময়ে ছাড়পত্র প্রদান করা হলেও মাসখানেকের মধ্যে পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায় পরিবেশ অধিদপ্তর। ফলে ফের বাড়ছে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ। শীঘ্রই পরিবেশ অধিদপ্তরের হয়রানি বন্ধ না হলে বড় পরিসরে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, সিলেটে পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের ১১৪ জন সদস্য রয়েছেন। পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণে আগ্রহীরা আবেদন করলে নানা ভাবে হয়রানি করা হয়ে থাকে। কোনো ব্যবসায়ী একটু কঠোর হলে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদানে হয়রানি কম করা হয়। এ যেনো শক্তের ভক্ত নরমের যম।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব সবুজ সিলেটকে বলেন, পরিবেশের ছাড়পত্র প্রাপ্তিতে হয়রানি বিষয়টি আমরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তর এবং মন্ত্রী মহোদয়কে জানিয়েছি। সিলেট চেম্বারের পক্ষ থেকে আমাদের দাবি দ্রুততম পরিবেশগত ছাড়পত্র যেনো প্রদান করা হয়। কোনো ব্যবসায়ীকে যেনো হয়রানির শিকার হতে না হয়।

  •