সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন চান আ. লীগের ডজনখানেক নেতা

44

সবুজ সিলেট ডেস্ক ::করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১১ মার্চ মারা যান সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া আসনে মনোয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন দলটির অন্তত এক ডজন নেতা।

কয়েসের মৃত্যুর পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রার্থী হওয়ার কথা জানান দিচ্ছেন। এলাকায় ব্যানার-পোস্টারও টানিয়েছেন কেউ কেউ। মনোনয়ন প্রত্যাশী সকলেই কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথেও যোগাযোগ শুরু করেছেন।

এককালে জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে জাতীর পার্টির একাধিক নেতাও প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের কাছে তারা এই আসনে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে বলেও দলটির একটি সূত্র জানা গেছে। আর বিএনপি এই উপনির্বাচনে অংশ নেবে কী না তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে বিএনপি অংশ নিলে দলটির একাধিক নেতা প্রার্থী হতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।

নির্বাচন বিধি অনুযায়ী- এ আসনে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সে হিসাবে আগামী জুনের মধ্যে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় সিলেট-৩ আসনে নির্বাচনের ব্যাপারে তড়িৎ কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। এখানে উপনির্বাচনের বিষয়ে পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
বিজ্ঞাপন

নির্বাচনের দিন তারিখ চূড়ান্ত না হলেও ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিশেষত ক্ষমতাসীন দলে রীতিমত প্রার্থী জট লেগে গেছে। বহুসংখ্যক নেতা এখানে প্রার্থী হতে আগ্রহী। দলের উপরের সারি থেকে, মধ্যম সারি এমনকি নিচের সারির অনেক নেতাও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে তৎপরতা শুরু করেছেন। একাধিক পেশাজীবী নেতাও রয়েছেন এই তালিকায়। সব দল মিলিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জন প্রার্থীর নাম এসেছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসনের ভোটার সংখ্যা মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৯জন। মোট ১১ বার নির্বাচন হওয়া এই আসনে আওয়ামী লীগ ৪ বার, বিএনপি ৩ বার এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী ৩ বার এই আসন থেকে জয়লাভ করেন।

এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে- দলটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের স্ত্রী ফারজানা সামাদ চৌধুরী, কয়েসের ভাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্যবসায়ী আহমদ উস সামাদ চৌধুরী, বিএমএ’র কেন্দ্রীয় মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক এবং সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, সিলেট জেলা বারের পিপি অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাহিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ মকলু মিয়া, সাবেক সহকারী এটর্নি জেনারেল ও যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টুসহ আরও কয়েকজনের নাম।

সিলেট-৩ আসন এক সময় জাতীয় পার্টির দূর্গ হিসেবে পরিচিত ছিলো। এখনও এই আসনে জাতীয় পার্টির বড় ভোটব্যাংক রয়েছে বলে ধরা হয়। তাই মহাজোটের পক্ষ থেকে এই আসন জাতীয় পার্টির নেতারা মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানা গেছে। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান মহাজোট থেকে প্রার্থী হওয়ার জন্য ইতোমধ্যে প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। এছাড়াও মনোনয়নের দৌড়ে আছেন জাতীয় পার্টির মনোনয়নে এই আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া আব্দুল মুকিত খান ও সিলেট-২ আসনের সাবেক এমপি ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) উপনির্বাচনে অংশ নেবে কি না তা নিশ্চিত নয়। যদি তারা উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তবে আবারও মনোনয়ন চাইবেন সাবেক সাংসদ শফি আহমেদ চৌধুরী। ১৯৯৬ সালের বিতর্কিত নির্বাচন ও ২০০১ সাল মিলিয়ে মোট দুইবার তিনি এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়াও আলোচনায় আছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক। খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা দিলওয়ার হোসাইনও প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

সিলেট-৩ আসনে উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ  বলেন, আমি রাজনীতিবিদ, ৪৫ বছর ধরে রাজনীতি করছি। ছাত্ররাজনীতি দিয়ে শুরু আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। এরমধ্যে আমি আইনজীবী হিসেবেও সফলভাবে কাজ করছি। কিন্তু কখনই জাতীয় বা স্থানীয় রাজনীতিতে সুযোগ হয়নি আমার। এখন যেহেতু সুযোগ আছে আমি চাই এই নির্বাচনে অংশ নিতে। এখন নেত্রী যদি চান আর আর আমাকে এই সুযোগ করে দেন তাহলে আমি নির্বাচন করবো।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু জাহিদ বলেন, আওয়ামী লীগ বৃহৎ দল। অনেকেই চেষ্টা করছেন দলের মনোনয়ন পেতে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে শুধু মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ভাই আমার সিনিয়র। দুয়েকজন আমার সমপর্যায়ের থাকলেও তারা রাজনীতি সম্পৃক্ত না। আর বাকি সব জুনিয়র ও প্রবাসী। ছাত্র রাজনীতি থেকে আমি শুরু করেছি। উপজেলা নির্বাচনও করেছি তিনবার। একটা বড় ভোটব্যাংক আছে আমার এই আসনে। তাছাড়া আওয়ামী লীগের রাজনীতি সব দলের মত না। দলীয় অনেক নিয়ম নীতি আছে। কারা এসব নিয়মের মধ্যে আছেন আমাদের নেত্রী সব পর্যবেক্ষণ করছেন। তাই নেত্রী যদি চান আমি নৌকার প্রার্থী হয়ে এই আসনে নির্বাচন করবো।

বিএমএ’র কেন্দ্রীয় মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল বলেন, আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সাথে ১৯৭৩ সাল থেকে জড়িত। এমসি কলেজের তখনকার ছাত্র সংসদের আমি নির্বাচিত প্রতিনিধি। মেডিকেল কলেজে পড়াকালীন ৭ বছর আমি ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসলো তখন আমি নিগৃহিতও হয়েছি। পারিবারিকভাবেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ও এই এলাকার সাথে আমার পরিচিতি আছে। তাই রাজনৈতিক পরিক্রমায় এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা আমার ইচ্ছা। এখন যদি আমার দল এবং দলের নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে আমি নির্বাচন করবো। এবং আমি জয়ের ব্যাপারে পুরোপুরি আশাবাদী।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান বলেন, সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনের দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হবে সেভাবেই হবে। যারা মনোনয়ন ফরম কিনবেন তারা মাঠ পর্যায়ে কে কি অবস্থানে আছেন সে ব্যাপারে তদন্ত হবে। তার রিপোর্ট যাবে নেত্রীর কাছে। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো তালিকা পাঠানোর নির্দেশনা এখনো আসেনি। তাই নেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন তাকেই আমরা সাপোর্ট করবো।

  •