নগরিতে অধিকাংশ সিসি ক্যামেরা অকেজো : দায় এড়াচ্ছে সিসিক

16

এম এ মালেক :::
সিলেট নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২০১২ সালে হাতে নেওয়া হয় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ। নানা কাঠখড় পুড়িয়ে নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নজরে রাখতে স্মার্ট ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়। ফেস ডিটেক্টরের মাধ্যমে একজন লোকের গতিবিধিও নজর রাখা যেতো এ সকল ক্যামেরা। এছাড়া ব্যক্তি উদ্যেগে নগরীর আনাচে কানাচে এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের উদ্যেগে নিজেদের ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয় গত কয়েক বছর ধরে। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে এ সকল নিরাপত্তা সরঞ্জাম নগরীর বিভিন্ন লাইটপোস্টে স্থাপন করা হয়েছে, তা যথযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে নগরবাসীর অভিমত। সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবস্থাপনার ত্রুটি ও অযতেœর কারণে লাইটপোস্টে থাকা ক্যামেরাগুলোর অধিকাংশই ‘শো-পিস’ হিসেবে শোভা বাড়াচ্ছে নগরের। তবে অভিযোগ মানতে নারাজ সিলেট সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর। বিদ্যুৎ শাখা বলছে, ক্যামেরা নষ্ট হলে, সাথে সাথে ঠিক করা হচ্ছে। অপরদিকে প্যানেল মেয়রের দাবি, ভালো মানের সিসি ক্যামেরা লাগানো ও সংস্কারের জন্য  নতুন টেন্ডার আহবান করা হয়েছে।
সিলেট নগরীতে লাগানো সিসি ক্যামেরাগুলোর অধিকাংশই বিকল হয়ে পড়ে আছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে কাজে আসছে না নগরী ও দক্ষিণ সুরমা অংশে নিরাপত্তার স্বার্থে লাগানো এসব সিসি ক্যামেরা। সিটি করপোরেশন ক্যামেরাগুলো স্থাপন করলেও তা মনিটর ও ব্যবহার করে কোতোয়ালি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িগুলো। সিলেট নগরীর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রথমে বসানো হয় ৯২ টি সিসি ক্যামেরা। ২০১২ সালে প্রথমে ২২ টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছিলো। এরপর পুলিশের অনুরোধে আরও ৭০ টি সিসি ক্যামেরা বসায় সিটি করপোরেশন। এরমধ্যে দক্ষিণ সুরমায় ২৪টি, আম্বরখানা-বিমানবন্দর সড়কে ২২টি ও সিলেট জজ কোর্ট এলাকায় ২৬টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিপনী বিতানগুলোর ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে স্ব স্ব এলাকায় স্থাপন করা হয় আরও শতাধিক ক্যামেরা। এসবের বেশিরভাগই এখন বিকল হয়ে পড়ে আছে। নগরীর বন্দরবাজার-চৌহাট্টা সড়কসহ সিটি কর্পোরেশনের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ক্যামেরাগুলোতে জং ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে।
তবে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, নিয়মিতই ক্যামেরা রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। অচল হলে তা সাথে সাথেই মেরামতও করা হয়। তবে বর্তমানে নগরীতে কতটি ক্যামেরা সচল রয়েছে তা জানাতে পারেন নি তারা।
সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. রুহুল আলম বলেন, যদি কোন ক্যামেরায় সমস্যা হয় তবে তা যত দ্রুত সম্ভব পাল্টে নেয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে ক্যামেরার ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুতই ব্যবস্থা নেই।
করোনাকালীন সময়ে অনেকের নেই কর্মসংস্থান। চলছে লক ডাউন। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নং ওয়ার্ডের ভেতর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল আর রেলওয়ে স্টেশন। রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ হুমায়ুন রশিদ চত্বর, মুক্তিযোদ্ধা চত্বরসহ কয়েকটি পয়েন্ট। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে ২৬ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন পয়েন্টে লাগানো হয় সিসি ক্যামেরা। ২৪ টি সিসি ক্যামেরার মধ্যে ৫ টি ক্যামেরা সচল থাকলেও বাকিগুলো অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। সিসি ক্যামেরার মনিটরিং করা হয় দক্ষিণ সুরমা পুলিশ ফাঁড়ি থেকে। সিসিকের লাগানো নি¤œমানের এসব সিসি ক্যামেরার রেজুলেশন ভালো না থাকার কারণে কে অপরাধী আর কে ভালো মানুষ চেনা দায়। আর এ জন্য দক্ষিণ সুরমা কেন্দ্রীক ২৫, ২৬ ও ২৭ নং ওয়ার্ড তথা দক্ষিণ সুরমায় অপরাধ সংগঠিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, সিসিকের অবহেলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সিসি ক্যামেরাগুলোর সংস্কার করা হচ্ছেনা। ভালো মানের সিসি ক্যামেরার বদলে লাগানো হয় নি¤œমানের ক্যামেরা। কয়েকদিন পরপর এক এক করে নষ্ট হতে থাকে সেগুলো। সিসি ক্যামেরা অকেজো থাকার কারণে অপরাধীরা নির্বিঘেœ তাদের তৎপরতা চালাচ্ছে।
স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সমাজসেবী জানান, ২৬ নং ওয়ার্ডের আয়তন অনেক বড়। বৃহৎ আয়তনের এই ওয়ার্ডের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত দক্ষিণ সুরমা পুলিশ ফাড়িঁতে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা কম। ক্বীন ব্রীজে পুলিশের টহল থাকলে হযরত শাহজালাল সেতু এলাকা থাকে অরক্ষিত। গুটিকয়েক পুলিশ সদস্য দিয়ে এলাকার স্বাভাবিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা অসম্ভব। নিরাপত্তার স্বার্থে লাগানো সিসি ক্যামেরা দিয়ে খুব সহজেই পুলিশ সদস্যরা তদারকি করতে পারেন। কিন্তু সিসি ক্যামেরাই যেখানে বারোমাস বন্ধ থাকে, সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
দক্ষিণ সুরমা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রোকনুজ্জামান পিপিএম জানান, তারা অকেজো সিসি ক্যামেরা মেরামত ও সংস্কারের জন্য মৌখিকভাবে সিটি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও কোনো কাজ হয়নি, এখন লিখিতভাবে সিসিককে আবেদন জানাবেন তিনি।
অপরদিকে ২৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র (১) রোটারিয়ান তৌফিক বকস্ লিপন বলেন, ফোরলেন ও টুলেন রাস্তার মেরামতের জন্য প্রাথমিক অবস্থায় কয়েকটি সিসি ক্যামেরা খুলে রাখা হয়েছিলো। বর্তমানে রাস্তার কাজ শেষ পর্যায়ে। সিসিক নতুন করে ভালো মানের সিসি ক্যামেরা লাগানো ও সংস্কারের জন্য টেন্ডার ইস্যু করেছে। অচিরেই সিসি ক্যামেরাগুলো স্থাপন ও রিপিয়ারিং এর কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

  •